চিরকুটে প্রতারকদের শাস্তি দাবি

এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রেমে নানাভাবে সহযোগিতা করতো ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। সেই বান্ধবীই প্রেমিককে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে না পেরে আত্মহত্যা করলো প্রেমিকা। এর আগে চিরকুট লিখে তার প্রতারক প্রেমিক ও বান্ধবীকে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে গেছে সে।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই দেওয়ান শামীম জানান, সংবাদ পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। সেই সঙ্গে নিহত রুমির লেখা চিরকুটটাও জব্দ করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ হতে মামলা দায়ের করা হলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শনিবার সকালে নিজ ঘর হতে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। সে পাশ্ববর্তী সাহাজদ্দিন মন্ডল ইনস্টিটিউট হতে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

আত্মহত্যা করা তরুণীর নাম রুমি আক্তার (১৬)। তার বাবার নাম বদু প্রামাণিক। ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চরদৌলতদিয়া পরশউল্লাহ মাতুব্বর পাড়ায়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুমি আক্তারের সঙ্গে রাজবাড়ী সদর উপজেলার কুলারহাট এলাকার যুবক শিমুলের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রুমির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও প্রতিবেশী শারমিন আক্তার নানাভাবে এ প্রেমে সহযোগিতা করত। শুক্রবার রাতে শিমুলের হাত ধরে শারমিন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।

রুমির চাচা আমজাদ হোসেন জানান, অন্য দিনের মতো শনিবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির রান্নাবান্না করে রুমি। এরপর তার মা শাহেদা বেগম স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে বাড়ির পাশে মাঠে যান। আধাঘণ্টা পরে এসে তিনি দেখেন রুমি সকাল ৮টার দিকে ঘরের আড়ার সঙ্গে উড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছে।

তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে রুমিকে আড়া থেকে নামান। এ সময় তার পায়ের নিচে একটি ডায়েরি ও চিঠিপত্র পাওয়া যায়। এর মাধ্যমেই তারা ঘটনা জানতে পারেন।

মৃত্যুর আগে চিরকুটে রুমি লিখেছে- আমি শিমুলকে অনেক ভালোবাসি, আর শারমিন ছিল আমার প্রিয় বান্ধবী। শিমুল শারমিনকে নিয়ে চলে গেছে। এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। আমি কিভাবে মুখ দেখাব। ও এত বড় বেইমানি করতে পারলো। শিমুলের সঙ্গে আমার যত কথা হয়েছে সব রেকর্ডিং আছে। মা আমাকে মাফ করে দিও। শিমুলকে শাস্তি দিও, তা নাহলে আমার আত্মা শান্তি পাবে না।

মেয়েটি আরও লিখেছে- আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী শিমুল আর শারমিন। আমি পৃথিবীর সব মায়া-মমতা ত্যাগ করে চলে যাচ্ছি। তোমাদের জন্য কষ্ট হচ্ছে। আমাকে ক্ষমা করে দিও মা। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রুমির এ রকম মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। সে অনেক মেধাবী ছাত্রী ছিল। তার মৃত্যুর বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তদন্তসাপেক্ষে এ ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি জানান তিনি। তবে তিনি আরো জানান,রুমি ও শিমুলের প্রেম ছিল অসম।