এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে দুই লাখ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও এখানে একটি কংক্রিটের সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আত্রাই নদীর পূর্বপাড়ের মানুষজন। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই নদী পারাপারে তাদের একমাত্র ভরসা।

অনেকে মনে করেন ৮ নং কুসুম্বা ইউনিয়নের শামুকখোল এলাকার বাসিন্দা বর্তমানে কৌশলে ৭ নং প্রসাদপুর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে ভোটার তালিকায় নাম ওঠানো রামনাথ গংরা চিরকাল প্রসাদপুর খেয়াঘাট বন্দোবস্ত নিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করবেন এ ধান্দায় এখানে কংক্রিটের একটি সুন্দর সেতু নির্মাণে প্রধান বাঁধা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

তার কারণে এখানে সেতু নির্মাণে তৎকালীন কতিপয় প্রভাবশালী মহল বাঁধা হয়ে দাঁড়ান। তার কারণ ছিল প্রসাদপুর বাজারের কদর তাহলে কমে যাবে। নদীর ওপার প্রসাদপুরে নতুন নতুন স্বাপনা নির্মিত হলে তাদের বাসা ভাড়া কমে যাবে ইত্যাদি।

স্থানীয়দের দাবি, প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মিত হলে নদী পারাপারের অপেক্ষায় আর থাকতে হবে না। ঘুরতে হবে না অন্তত ৫ কিলোমিটার পথ। মাত্র ২০০ মিটার পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে পৌছানো যাবে।

রোগীদের সহজেই নেয়া যাবে মান্দা হাসপাতাল সহ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও। কৃষকদের উৎপাদিন ধান,পাট, আখ, তিল, সরিষা, সহ নানা পণ্য পরিবহণে ভোগান্তি ও ব্যয় দুটোই কমবে। একই সাথে উপজেলার ৭ নং প্রসাদপুর, ৫ নং গনেশপুর, ৬ নং মৈনম, ১২ নং কাঁশোপাড়া ও ১৩ কশব ইউনিয়নের লোকজন সহজেই উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবেন।

তবে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর বলছে, ওই খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের জন্য কয়েক দফায় মাটি পরীক্ষা, স্থান নির্ধারণ ও সেতুর ধরণ নিয়ে একাধিক জরিপ কাজ করেছেন এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি দল। খুব শিগগিরই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।

স্থানীয়রা জানান, আত্রাই নদীর প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে পারাপারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অফিসগামীসহ সর্ব সাধারণ লোকজনকে। অনেক সময় ভরা মওসুমে ৩০/৪০ মিনিট অপেক্ষা পর্যন্ত করতে হয়। এত সময় দেরিতে পারাপারের কারণে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের। অনেক শিক্ষার্থীদের ক্লাস মিসের ঘটনাও ঘটে। এছাড়া জরুরি রোগিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই একটি কংক্রিটের মাত্র ৬০০ ফুটের সেতুর অভাবে সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন পাঁচ ইউনিয়নের অন্তত দুই লাখ মানুষ।

প্রসাদপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে লোকজন নদী পারাপার হন। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এ সময় নৌকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পারাপারে সমস্যার কারণে সময়মত গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। রাত ১০ টার পর পারাপার বন্ধ হয়ে গেলে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে পরে গন্তব্যে যেতে হয়।

প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ড সদস্য শরিফ উদ্দিন বাচ্চু বলেন, প্রতিদিন এ খেয়াঘাট দিয়ে অন্তত ১৫-১৬ হাজার লোক পারাপার হন। ভরা বর্ষায় এক সাথে অতিরিক্ত লোক নৌকার চড়লে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেকে ঝুঁকি এড়াতে নদী পার না হয়ে পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করেন।

প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন খাঁন বলেন, সংকটাপন্ন রোগীদের হাসপাতালে নিতে এ অঞ্চলের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। নদী পারাপারের অপেক্ষায় না থেকে প্রসাদপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন বিশ্ববাঁধের দরগাতলা মোড় থেকে ফেরিঘাট হয়ে আড়াই কিলোমিটার পথ ঘুরে পরে আবার ফেরিঘাট থেকে আড়াই কিলোমিটার মোট পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তবেই হাসপাতালে যেতে হয় তাদের। দীর্ঘ সময়ের কারণে এসব রোগীদের অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হয় না।

চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন খান আরও বলেন, কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় পণ্য পরিবহণে একইভাবে ভোগান্তির শিকার এখানকার দরিদ্র কৃষকরা।

গনেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মন্ডল বলেন, সেতুটি নির্মাণ করা হলে সাতবাড়িয়া মোড় হয়ে গনেশপুর, মৈনম, কাঁশোপাড়া ও কশব ইউনিয়নের লোকজন মহাসড়ক ব্যবহান না করে তাড়াতাড়ি উপজেলা সদরে পৌঁছাতে পারবেন। দক্ষিণ এলাকার লোকজনও একইভাবে সতিহাটসহ নওগাঁ শহরে যাওয়ার সুবিধা পাবেন।

শহীদ মামুন সরকারি হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ও সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তাই এখানে একটি সেতুর জরুরি দরকার।

উপজেলা প্রকৌশলী মোরশেদুল হাসান বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য ও তৎকালীন সময়ের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক স্যার প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের একাধিক টিম মাটি পরীক্ষা, স্থান নির্ধারণসহ সেতুর ধরণ নিয়ে নানাভাবে কাজ শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, গতবছর উক্ত সেতু নির্মাণ কাজের সমীক্ষা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মহোদয় সেতুটির সম্ভাব্যতা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সেসসয় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত এ সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে বলেও আশ্বস্ত করেন।