নেত্রকোনা প্রতিনিধি : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, ২০০৮ সালে ষড়যন্ত্র ও প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা লাভের পর আইনের দোহাই দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নির্বাচনের নামে একচ্ছত্রভাবে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। দেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে শুধু ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের জন্য ক্ষমতাসীনরা একের পর এক যে ভুল করেছেন সে জন্য জাতিকে ৫১ বছর ধরে খেসারত দিতে হচ্ছে। এই অবৈধ সরকারকে উৎখাত করতে হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন বিকল্প নাই। প্রধানমন্ত্রী দুইটি কথা ছাড়া কোন সত্য বলেন না। তার একটি হলো রাতে দরজা বন্ধ করতে বলা আর ভোরে দরজা খুলতে বলা।

শনিবার দুপুরে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক ডা: মো: আনোয়ারুল হকের সদর হাসপাতাল রোডস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্র ঘোষিত ১০ দফা বাস্তবায়নের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

ডা: আনোয়ারুল হকের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপি সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম হিলালীর সঞ্চলনায় এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী, কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা জেসমিন নাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান নূরু, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ফজলুল রহমান বলেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া যদি গণতন্ত্র মেনে বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতেন তবে ৭১ এ যুদ্ধ হতো না।

তিনি আরো বলেন, আমি যতবার বঙ্গবন্ধু ও রাসেলের কথা বলে মানুষকে কাঁদিয়েছি যদি আল্লাহকে সেইভাবে ডাকতাম তবে অলি হতে পারতাম। আর এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নির্বাচনকালীন সর্বদা থাকতে হবে। তাই ঘোষিত ১০ দফা বাস্তবায়নের জন্য দুর্বার গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

সভা চলাকালীন সভাস্থলে আসার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন রিপন ও যগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আজহারুল ইসলাম কমলের উপর হামলা চালালে তারা গুরুতর আহত হন। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সম্মেলন চলাকালে আশপাশে পর পর একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সভা বানচালের চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।