ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো : পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট ম্যাচ সিরিজের চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে রেখেছে টাইগাররা। দিনের প্রথম সেশনে ৪৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া টাইগারদের উদ্ধার করেছেন দুই ব্যাটার লিটন ও মুশফিক। লিটন-মুশফিকের পঞ্চম উইকেট জুটিতে অবিচ্ছিন্ন ২০৪ রানের জুটি গড়ে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের করে নিল।

টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করে ১১৩ রানে অপরাজিত আছেন লিটন। নামের পাশে ৮২ রান রেখে দিন শেষ করেছেন মুশফিক। এ জুটির নৈপুণ্যে প্রথম দিন শেষে ৮৫ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৩ রান করেছে বাংলাদেশ। আলোর স্বল্পতার কারণে ৫ ওভার আগেই প্রথম দিনের খেলা শেষ হয়।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় বাংলাদেশ। দলের হয়ে ইনিংস শুরু করেন সাদমান ইসলাম ও সাইফ হাসান। পেসার হাসান আলির করা দ্বিতীয় ওভারেই দু’টি চার মারেন টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১ ও ০ রান করা সাইফ। চতুর্থ ওভারের শাহিন শাহ আফ্রিদির দ্বিতীয় ডেলিভারিতে ইনিংসে নিজের তৃতীয় বাউন্ডারি আদায় করে নেন সাইফ। তবে তৃতীয় বলে আফ্রিদির বাউন্সার সামলাতে না পেরে শর্ট লেগে আবিদ আলিকে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে ৩টি চারে ১২ বলে ১৪ রান করেন সাইফ।

দলীয় ১৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর সাদমানকে নিয়ে দলের ইনিংস মেরামত করার চেষ্টা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ভালোই সামলাচ্ছিলেন পাকিস্তানের উদ্বোধনী পেসারদ্বয়কে। কিন্তু হাসানের করা অষ্টম ওভারের শেষ বলে লেগ বিফোর হন সাদমান। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি সাদমান। সাইফের মত ৩টি চারে ১৪ রান করেন সাদমানও। তিনি খেলেন ২৮ বল।

৩৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনে ক্রিজে শান্তর সঙ্গী হন অধিনায়ক মোমিনুল। এই ভেন্যুতে ক্যারিয়ারের ১১ সেঞ্চুরির ৭টিই করেছেন মোমিনুল। তাই আজও অধিনায়কের কাছ থেকে নান্দনিক ইনিংসের অপেক্ষায় ছিলো বাংলাদেশ। হতাশ করেছেন মোমিনুল। ডান-হাতি স্পিনার সাজিদ খানের বলে উইকেটের পেছনে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ক্যাচ দেন মোমিনুল। অবশ্য সাজিদের আবেদনের প্রথমে সাড়া দেননি নন-স্ট্রাইকের আম্পায়ার। এতে রিভিউ নেয় পাকিস্তান। রিভিউ নিয়ে ১৯ বলে ৬ রান করা মোমিনুলের বিদায় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
পরের ওভারে পেসার ফাহিম আশরাফকে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে সাজিদকে ক্যাচ দেন শান্ত। সাইফ-সাদমানের মত শান্তও ১৪ রান করেন। তার ৩৭ বলের ইনিংসে ২টি চার ছিলো। ২ রানের ব্যবধানে মোমিনুল ও শান্তকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৪৯ রানে চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে টাইগারদের।

এরপর দলকে চাপমুক্ত করতে জুটি বাঁধেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। সতর্কতার সাথে খেলে আর কোন বিপদ ছাড়াই মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যান মুশফিক ও লিটন। ২৮ ওভারে ৪ উইকেটে ৬৯ রান তুলে মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পরও পাকিস্তানের বোলারদের উপর আধিপত্য বিস্তার করেন মুশফিক ও লিটন। ৩৯তম ওভারে দলের স্কোর তিন অংকে পৌঁছে দেন তারা।

৪৯তম ওভারে টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম হাফ-সেঞ্চুরি পান লিটন। ৫১তম ওভারে জুটিতে শতরান পূর্ণ করেন মুশফিক ও লিটন।এরপর ৫৩তম ওভারে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৪তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। মুশফিক-লিটনের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ৫৯ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭১ রান তুলে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

শুরুর ধাক্কা দারুণভাবে সামাল দিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান মুশফিক ও লিটন। একই ধারা অব্যাহত রাখতে দিনের শেষ সেশনের খেলা শুরু করেন তারা। ৬৫তম ওভারে মিড-উইকেটে সাজিদের হাতে জীবন পান লিটন। তখন ব্যক্তিগত ৬৭ রানে দাঁড়িয়ে লিটন। জীবন পাবার পর ৭৮তম ওভারে টেস্ট ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন।

১৯৯তম বলে ২৫তম ম্যাচে এসে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান লিটন। এর আগে তার সর্বোচ্চ রান ছিলো ৯৫। গত জুলাইয়ে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছিলেন লিটন। তার আগে আরও একবার ৯৪ রানে ফিরেছিলেন এই ডান-হাতি ব্যাটার। তাই দু’বার নাভার্স-নাইন্টিতে গিয়ে সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। এবার সেঞ্চুরি না পাবার বন্ধ্যাত্ব ঘুচলো লিটনের।

সেঞ্চুরির পর কোন রকম ঝুঁকি না নিয়ে মুশফিককে নিয়ে রানের গতি ধরে রেখেছিলেন লিটন। ৮৫তম ওভারে জুটিতে ২শ রান পূর্ণ করেন মুশফিক ও লিটন। আর ঐ ওভার পরই দিনের খেলার ইতি ঘটে। ২২৫ বল খেলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কায় ১১৩ রানে অপরাজিত আছেন লিটন।

১৯০ বলে ১০টি চারে ৮২ রানে অপরাজিত আছেন মুশফিক। এই ইনিংস দিয়ে দেশের মাটিতে টেস্ট ফরম্যাটে টাইগার দলের এখন সর্বোচ্চ রানের মালিক হন মুশি।

পঞ্চম উইকেটে ৪১৩ বলে অবিচ্ছিন্ন ২০৪ রান করেছেন মুশফিক-লিটন। টেস্ট ইতিহাসে ৪৯ রানে চার উইকেট পতনের পর পঞ্চম উইকেট জুটিতে অন্তত ২শর রান করার ষষ্ঠ নজির গড়লেন মুশফিক ও লিটন। চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে পঞ্চম উইকেটে জুটিতে সর্বোচ্চ রানের নয়া নজিরও গড়লেন মুশফিক ও লিটন।

দিনের খেলা শুরুর প্রথম ৫৮ মিনিট ও ৯৮ বলের মধ্যে বাংলাদেশের চার উইকেট তুলে নিয়েছিলেন পাকিস্তানের চার বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি-হাসান আলি-ফাহিম আশরাফ-সাজিদ খান।