মামুন হোসেন, ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) : আকাশ জুড়ে শরতের মেঘের ভেলা। দিগন্ত জুড়ে কাশফুল জানান দিচ্ছে আসছে শারদীয় দুর্গোৎসব। আর কয়েক দিন পরই সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব।

প্রতি বছরই পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় জমকালো ভাবে এই উৎসব পালন করা হচ্ছে। তবে করোনার কারণে গতবারে আনন্দ উদযাপনে কিছুটা ভাটা পড়েছিল।

এবার শেষ সময়ে প্রতিমার রঙ করতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কারিগররা। এ বছর এ উপজেলায় ৪৭টি মন্দির ও মন্ডবে মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত প্রতিমা তৈরির প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে, চলছে রং ও তুলির কাজ।

শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সারি-সারি ভাবে প্রতিমা দাঁড় করানো আছে। একদিকে চলছে প্রচন্ড রোদে এই প্রতিমাগুলো শুকানোর কাজ। অন্য দিকে রং তুলির আঁচড়ে প্রাবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে প্রতিমাগুলো।

ভান্ডারিরিয়া উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নে ৯টি ,২ নম্বর নদমুলা শিয়ালকাঠী ইউনিয়নে ৭টি,৩ নম্বর তেলিখালী ইউনিয়নে ৩টি,৪ নম্বর ইকড়ি ইউনিয়নে ১০টি, ৫ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়নে ৮টি, ভান্ডারিরিয়া পৌর সভায় ৭টি এবং ৭ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নে ৩টি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে পূজা, তাই সর্বত্র উৎসবের আয়োজন চলছে।

উপজেলার কেন্দ্রীয় মদন হোমন জিউর মন্দিরে আগত ফরিদপুরের মৃৎশিল্পী সমীর পালের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে তিনি এ পেশায় কাজ করছেন। শুরুতে একটি প্রতিমা ৩ জন হেল্পার নিয়ে ১৫০০ টাকায় নির্মান করেও ভাল দিন কাটতো। এখন ৭/৮ জন হেল্পার এবং লাখ লাখ টাকা মজুরি পেলেও ভাল থাকাটা কষ্টকর,কারণ হেল্পারে মজুরি বেশী তারপর দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতি।

এ মন্দিরের প্রতিমা তৈরীতে তিনি পাবেন প্রায় দেড় লাখ টাকা। উপজেলার অন্য স্থানে আরো প্রায় ৪/৫টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরীতে পাবেন ৭০ ও ৮০ হাজার টাকা। তিনি আরো বলেন, অন্য বছর প্রতিমার ভাল মূল্য পেলেও এবার তেমন ভাল দাম পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি কিরন চন্দ্র বসু জানান, গত বছর করোনার কারনে পূজায় কোন উৎসবে অনুষ্ঠান করা যায়নি।

এ বছর আগামী ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর প্রযর্ন্ত পাঁচ দিন ব্যপি দুর্গোউৎসব ও পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন,পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় শেষে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা কমিটি উপজেলার প্রত্যেক মন্দির কমিটিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে উৎসব উদ্যাপনের জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে পূজাকে ঘিরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্ব-স্ব দপ্তর সচেতন রয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সীমা রানী ধর এবং ভান্ডা রিয়া থানার ওসি মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস। অন্য দিকে পূজায় বিভিন্ন বেসরকারি অনুদান ছাড়াও সরকারি ভাবে প্রতি মন্দিরের জন্য ৫০০কেজি চাল বরাদ্ধ হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।