রংপুর অফিস : রংপুরের কাউনিয়ায় স্কুলছাত্রী সানজিদা আক্তার ইভার (১৬) হত্যারহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। প্রতারিত হওয়ার ক্ষোভ থেকে তিন প্রেমিক মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সকালে রংপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) মো. আশরাফুল আলম পলাশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রেমিক নাহেদুল ইসলাম সায়েম রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের তাশুক উপাশু গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নুর হোসেনের ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

অন্যদিকে হত্যার শিকার সানজিদা আক্তার ইভা কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের গোড়াই গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ে। সে পার্শ্ববর্তী পীরগাছা উপজেলার বড়দরগাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এএসপি আশরাফুল আলম বলেন, এই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য সানজিদার ব্যাগে পাওয়া একটি খাতা ও সোর্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রেমিক নাহিদুল ইসলাম ওরফে সায়েমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে দেওয়া জবানবন্দিতে সায়েম তার প্রেমিকা সানজিদার সঙ্গে তিন বছর আগে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে জানায়।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে সায়েম ও সানজিদার সম্পর্ক ভেঙে গেলেও যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। এরই মাঝে গত ১৬ আগস্ট দুপুরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সায়েম সানজিদাকে নিয়ে রংপুর নগরীর শাপলা টকিজে সিনেমা দেখতে যান। সেখানে সানজিদার নতুন প্রেম নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

পরে সায়েম তার পূর্ব পরিচিত আরও দুইজনের সাহায্যে কৌশলে সানজিদাকে মাহিগঞ্জে রেখে পরে সেখানে আবার মিলিত হয়। তারপর তারা পীরগাছায় তিস্তা নদীর পাড়ে নির্মিত আলীবাবা থিম পার্কে ঘুরতে যায়, কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় সানজিদা ফিরে আসার জন্য চাপ দেয়। এরপর মধুপুর রোডের একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে সানজিদার একাধিক প্রেম নিয়ে আবার তর্কাতর্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে সায়েমসহ তিন প্রেমিক মিলে উপর্যুপরি ছুরিকাহত করে সানজিদাকে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।

আশরাফুল আলম জানান, গ্রেপ্তার সায়েম হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে আরও একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত।

কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আনিসুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে আসামি সায়েম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে তাকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

নিহত স্কুলছাত্রীর চাচা সোলেমান আলী বলেন, সানজিদার দুঃসম্পর্কের মামা হন নাহেদুল ইসলাম সায়েম। পারিবারিকভাবে তাদের প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় এ নিয়ে অনেক ঝামেলা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সানজিদা। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। সেদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাউনিয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ শনাক্ত করা হয়।

রংপুর জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম পলাশ জানান, সায়েম এই হত্যার সাথে সম্পৃক্ততা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে আরও একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে কাউনিয়া উপজেলার কুটির পাড় বাজার হতে মধুপুর যাওয়ার সড়কের পাশে গলা কাটা অজ্ঞাত পরিচয়ের এক তরুণীর লাশ পড়ে ছিল। স্থানীয় পথচারীরা লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা হাসপাতালে পাঠায়। নিহত সানজিদা খানম ইভার বাড়ি কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের গোড়াই গ্রামে। সে বড়দরগা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী।