ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় যাওয়াদের প্রভাব আর অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে অনেক কৃষক এবার আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন ঘরে তুলতে পারেননি। তাই লোকসান পুষিয়ে নিতে ইরিবোরো চাষের জন্য আগে ভাগে বাপক বোরোর বীজতলা তৈরি করেছেন । দিনরাত গায়ে গতরে খেটে বীজ তলার যত্ন নিচ্ছেন। ইরিবোরোর ব্যাপক ফলনের প্রত্যাশা নিয়ে বোরো চাষের জমি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়, উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বীজ তলা তৈরি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বীজ তলার অবস্থা ভালো হলেও ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক। ঠান্ডার কারণে অনেক ক্ষেত সাদা ও লালচে বর্ণ ধারণ করেছে। কিছু ক্ষেতে মড়ক দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, তাঁরা কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে এ বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫০৬ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বীজ তলা তৈরি করা হয়েছে ৫৮৫ হেক্টর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এ বছর উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় উবশী -২৮,২৯,৫৮,ব্রি ধান- ৮১,৮৬ ৮৮,৯২,১০০ জিংক সমৃদ্ধ ধান -৭৪,৮৪ বিআর- ১৪, বিণা-১০ হাইব্রিড-ময়না,সোনার বাংলা, পারটেক্স, হীরা-৫,৬ তেজগোল, সিনজেন্টা-১২০৫,১২০৬ নাফকো-২১০৮ কেপিপি-১,কৃষিবিদ, সোনার বাংলা-৬,পারটেক্স-২,৬ মাহি-১ মাহিকো, ছক্কা, এসিআই-২, ১২,১৯,মল্লিকা, এসিআই-২, হীরা-১,২,১৯, মল্লিকা,এক্সেল-৪ এইচ এবং বিএডিসির ধান বীজ দিয়ে বীজ তলা তৈরি করেছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় কাশিপুর, শিমুলবাড়ি, বড়ভিটা, নওদাবস, ভাঙ্গামোড়, গজেরকুটি, কুরুষাফেরুষা, চন্দ্রখানা, বছরেরখামার, গংগারহাট ও ফুলবাড়ী সদরে কৃষকদের আমন ধান কাটা শেষ হয়েছে। নিচু জমি তৈরি করে বীজ চারা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেক কৃষক। শত বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চান কৃষকরা।

উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক দুলাল মিয়া জানান, আমনের আবাদ ভালো হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন। তবে যাওয়াদের সময় প্রচুর বৃষ্টিতে ৫০ শতক জমির ধান পানিতে ডুবে যায়। ফলে ফলন বিপর্যয় ঘটে। এখন বোরোর চাষাবাদ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

নওদাবস গ্ৰামের কৃষক সাইফুল হক বলেন, আমার নিজের জমি নেই। বর্গা নিয়েছি। বীজ তলা তৈরি করতে করেছি। আশা করছি কয়েক সপ্তাহ পরে রোপণ শুরু করতে পারবো। গোড়কমন্ডল গ্ৰামের কৃষক মহির উদ্দিন জানান, এবার ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে ।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান, ঠান্ডা জনিত কারণে যাতে বীজ তলা ক্ষতিগ্ৰস্ত না হয় সেজন্য বীজতলার চারদিকে আইল বেঁধে সন্ধ্যায় পানি দিয়ে সকালে ছেড়ে ছেড়ে দেওয়া, সন্ধ্যার পর পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পরামর্শ হচ্ছে। এছাড়াও ড্রাম(১৬লিটার) প্রতি ১০ গ্ৰাম হাদাক অথবা থিমিটের সাথে ৫০ গ্ৰাম ইউরিয়া,৫০ গ্ৰাম সালফার,৩০ গ্ৰাম পটাশ,৩০ গ্ৰাম ট্রিপল সুপার ফসফেট মিশিয়ে ৭-১০দিন পর পর বীজ তলায় স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, কৃষকদের বীজতলায় সুষম মাত্রায় জৈব- অজৈব সার প্রয়োগ এবং পোকামাকড় দমন সহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন,অতীতে আমনের ফলন ভালো হয়নি। তারা যেন আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন সে বিষয়ে আমরাও পরামর্শ দিচ্ছি।