এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁর পোরশার আল জামিয়াতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ্ (কওমী) মাদরাসার দাওরা হাদিসে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আবদুল ওয়াহাব (২২) কে শ্বাসরোধ করে (গলাটিপে) হত্যা করেছে এক ঘাতক। গত বুধবার রাতে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের এ ঘটনাটি ঘটে। হত্যাকান্ডের শিকার ওই শিক্ষার্থী উপজেলার ছাওড় ইউপি’র ধাপগ্রাম এলাকার কছিম উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, নিজের শ্যালককে হত্যা করা এক মামলায় ৫/৬ মাস জেলখাটা ঘাতক ফিরোজ হোসেন নামের ওই যুবক সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে রাগে ও ক্ষোভে সেই মামলার ১ নং স্বাক্ষী ও-ই শিক্ষার্থীর সাথে কৌশলে তার বন্ধুদের মাধ্যমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলায়। পরে তার বন্ধুদের মাধ্যমে মাদরাসা থেকে ডেকে নিয়ে সরাইগাছি মোড়ে বাইসাইকেল রেখে বাসযোগে মরাকাটি এলাকায় নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে (গলা টিপে) নির্মমভাবে হত্যা করে আবদুল ওয়াহাবকে।

পরে লাশ গুম করার জন্য ভ্যানযোগে পত্নীতলার শিবপুর চর এলাকার এক নির্জন ধান ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে লাশ ফেলে দেয়।

তবে লাশ রেখে আসার সময় টহলরত পুলিশ রাস্তায় রাত ২টার সময় দেখতে পেয়ে ঘাতক ফিরোজকে জিজ্ঞেস করলে ঢাকা যাবে বলে পুলিশকে জানিয়ে সে বলে একজনের জন্য এখানে অপেক্ষা করছে সে।

কিন্তু ঘাতকের আবোলতাবোল কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে সেখানে আটকিয়ে রেখে, অন্য পুলিশ সদস্য বাগানে গিয়ে দেখে বস্তায় লাশ। পরে ঘাতককে আটক করে ও সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে পত্নীতলা থানায় হেফাজতে নেন। পরে ঘাতক সব ঘটনা স্বীকার করে।

এ ঘটনায় একজনকে আসামি করে পত্মীতলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হত্যার শিকার ওই শিক্ষার্থীর মেঝভাই ও মামলার বাদি আবদুল মোন্নাফ জানায়, তার ভাই কোন অপরাধ করেননি। ডেকে নিয়ে জিঘাংসা চরিতার্থ করতেই এ হত্যা কান্ড সংঘটিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়না তদন্তের পর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িতদের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম জানান, নিহতের মেঝভাই আবদুল মোন্নাফ বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।