ফাইল ছবি

এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : তেলের পর দেশে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের কারণে দেশের বাজারে কিছুটা দাম বেড়েছে। তবে কৃষক বলেছে গ্রামের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা। তারপরও পেঁয়াজ বিক্রি করে লোকসান হচ্ছে এমনই দাবি রাজবাড়ীর চাষিদের।

সোমবার রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দদি উপজেলার বহরপুরহাট ও কালুখালি উপজেলা সদর হাটে পেঁয়াজের বাজার ছিল। এ দিন বহরপুর বাজারে প্রতি মন পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৯৬০ টাকা থেকে ১০২০ টাকা করে।

রাজবাড়ীর কালুখালি উপজেলার বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কৃষক বিক্রি করছে প্রকার ভেদে ২৬ টাকা থেকে ২৭.৫০ টাকা দরে। মণ হিসেবে ১০৪০ টাকা থেকে ১১শ টাকা দরে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রামের বাজার থেকে রাজধানীতে নিয়ে বিক্রি করবে প্রতি কেজি ৩১ টাকা থেকে ৩৩ টাকা দরে। তবে এ দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে কৃষক মোটেই খুশি নয়।

চাষিদের দাবি, এ বছর এক কেজি পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ পরেছে ৩২ থেকে ৩৫ টাকা করে। সেখানে বিক্রি হচ্ছে ২৬ থেকে ২৭ টাকা কেজি। পেঁয়াজ ঘরে রেখে দিলে ওজন কমতে থাকে। আবার গত এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাত থাকার কারনে অনেক কৃষকের পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে। জ্বালানী তেল, শ্রমিক, সার কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ অন্য বছরের তুলনায় বেড়েছে।

এ ছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় পেঁয়াজের ফলনও আশানুরূপ হয়নি। অনেক কৃষক বলছে এভাবে লোকসান হলে আগামী বছর অন্য ফসল আবাদ করতে হবে। কারণ এক সপ্তাহ আগে প্রতি মণ পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা দরে। চাষিদের দাবি প্রতি মন পেঁয়াজ ১৫শ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে আসল টাকা উঠবে।

বালিয়াকান্দির বহরপুরের কৃষক রহমত আলী জানান, এক বিঘা জমি এক বছরের জন্য লিজ (ভাড়া) নিতে হয় ১২০০ টাকা দিয়ে। সেই জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে যদি এক হাজার টাকা মন বিক্রি করতে হয় তাহলে কিছুই থাকে না। ঈদের আগে দুইদিন হাটে পেঁয়াজ নিয়ে ফিরে এসেছি। বিক্রি করতে পারিনি। আজকে ৯৮০ টাকা করে বিক্রি করেছি। এভাবে দাম পেলে আমাদের পথে বসতে হবে।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফিরোজ লস্কর জানান, আমাদের ঢাকা থেকে মহাজন যে দাম বলে দেয় তার থেকে কেজিতে তিন টাকা থেকে সাড়ে তিন টাকা কমে আমরা পেঁয়াজ কিনে থাকি। আমাদের গাড়ী ভাড়া দিয়ে ঢাকা পাঠাতে কেজি প্রতি আড়াই টাকার বেশি খরচ হয়।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম শহদি নূর আকবর জানান, কৃষকের এক কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে সব কিছু মিলে খরচ হয়েছে ২১ টাকা। মৌসুমে বিক্রি করে লোকসান হলেও এখন কৃষকের পেঁয়াজে লাভ হচ্ছে।