মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়া বড়করিমপুর জেলেপল্লিতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরপরই পুলিশ প্রশাসনের ব্যাপক ধরপাকড়ে আশপাশের গ্রামগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। ধরপাকড় বন্ধে নারীরা আবারো প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

মোঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বটেরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন তাদের শিশুসন্তানসহ প্রায় পাঁচশত নারী। ধরপাকড় বন্ধে নারিদের এই বিক্ষোভ মিছিল।

এ সময় ক্ষুব্ধ নারীদের সঙ্গে কথা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), রামনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বললে নারীরা ফিরে যান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নারীদের অভিযোগ, জেলেপল্লিতে হামলার ঘটনার পর আশপাশের গ্রামের নিরপরাধ লোকজনকে পুলিশ অহেতুক গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের ভয়ে আশপাশের ৯টি গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

বিক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারী নারীরা জানান, নির্বিচারে গ্রেপ্তার করছে গ্রামের নিরীহ শান্তিপ্রিয় ও সহজ সরল নিরীহ কৃষকদের। গ্রেপ্তার না করার দাবিতে গত শুক্রবার দুপুরে তাঁরা বটেরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করেন। ওইদিন পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক একরামুল হক নারীদের নিয়ে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই অনুযায়ী গত রোববার তাঁদের সঙ্গে বসার কথা ছিল। ওই দিন না বসায় নারীরা আজ মোঙ্গলবার আবারও বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা বারোটার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন পীরগঞ্জের ইউএনও বিরোদা রাণী রায়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রামনাথপুর ইউপির চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম।

ইউএনও নারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা এখানে গণজমায়েত করেছেন এটা দেশের আইন বিরোধী অপরাধ। আপনাদের এ অপরাধ আমরা আমলে নিচ্ছি না। আর নিরাপরাধ মানুষকে পুলিশ ধরছে না। আপনাদের স্বামী–সন্তান যে নিরপরাধ তা আপনাদের প্রমাণ করতে হবে। দোষ না করলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকবে কেন? আপনারা ঘরে ফিরে যান। আমরা তদন্ত করে দেখব কে নির্দোষ আর কে দোষী। গ্রামের অসহায় নিরীহ লোকজন যেন গ্রেফতার না করেন সে ব্যাপারে আমি পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। আর অপরাধী যেই হোক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।

পরে ইউএনও ও চেয়ারম্যানের আশ্বাসে বেলা সাড়ে বারোটার দিকে নারীরা সেখান থেকে চলে যান। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বউবাজার গ্রামের সেলিনা বেগম বলেন, ‘গ্রামোত কোনো পুরুষ মানুষ নাই। পুলিশ ভালো মানুষ ও অপরাধী কিছুই বোঝে না। যাকে পায় তাকে ধরি জেলোত দেয়। ওই জন্যে স্বামী, ছইল বাড়ি ছাড়ছে। ঘর সংসার নিয়া একলা থাকির নাগে। খুব যন্ত্রণা হইচে আমরা খুব ভালো আছি। সেই জন্য আসছি যাতে আর ধরাধরি না করে। নারীদের দাবি আমরা গ্রামের সহজ সরল মানুষ আমরা বেশি বুঝি। হিন্দু মুসলমান আমরা একসঙ্গে বসবাস করি মামাদের মাঝে কোন বিভেদ নাই।