প্রতীকী ছবি

খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : বিয়ে বাড়ীতে খাবারে বসে মাংস নিয়ে বিতণ্ডা মারামারি। এর জের নতুন দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ। ২৪ ঘণ্টা না যেতেই পালিয়ে গিয়ে নিজেরা আবার বিয়ে করে নিয়েছেন সেই বর-কনে।

বর সবুজ আলী বলছিলেন, সেখানে যা ঘটেছে, তাতে আমাদের দুইজনের তো কোন অন্যায় নেই। বিয়ে বাড়িতে এক-দুই কথা হয়। কিন্তু সেটা যে এতদূর চলে যাবে, তা ভাবি নাই।

এখন তারা উভয়েই ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন।

সুমি খাতুনের সঙ্গে সৌদি আরব প্রবাসী সবুজ আলীর বিয়ে হয় দুই বছর আগে। সেই সময় তিনি সৌদি আরবে থাকলেও টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বউ তুলে নিয়ে আসার কথা ছিল। সেই অনুষ্ঠানেই গণ্ডগোল হওয়ার কারণে তাদের তালাক হয়ে যায়।

বিয়ের সময় তার সঙ্গে মোবাইল ফোন ছিল না। এ কারণে সেই সময় তিনি কারও সঙ্গে কোন যোগাযোগ করতে পারেন নাই।

দুই বছর আগে বিয়ে হলেও চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার দশমী গ্রামে গত রোববার কনে সুমি খাতুনকে তুলে দেয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে বরপক্ষের লোকজনের মাংস বেশি খাওয়া নিয়ে কনেপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা, পরে সংঘর্ষ বাধে। এরপর সালিশ বৈঠকে বর-কনের মধ্যে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

কনের পিতা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বরপক্ষের লোকজন খাবারে অনেক মাংস নষ্ট করেছে। এরপরও ভাত না খেয়ে আরো মাংস চাইলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়ে যায়। এ ছাড়া তারা গায়ে হলুদের উপহারও ফেরত নিয়ে এসেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেদিন রাতেই দুই পক্ষের সালিশে বিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়।

কনের পিতা নজরুল ইসলাম বলেন, তিনজন নিয়ে গ্যাঞ্জাম। সবাই খেয়ে উঠে গেছে, বরের সাথে তিনজন ছিল, ওই তিনজনকে নিয়ে গ্যাঞ্জাম। তারা বলতেছিল, আরো মাংস দেও। গ্যাঞ্জাম করে মারামারি করল।

তবে বর সবুজ আলীর দাবি, মাংস নিয়ে না, হাত ধোয়া নিয়ে কথাবার্তার জের ধরে ঘটনাটা ঘটেছে। তারপর কী থেকে কী হয়ে গেল, বুঝলাম না। সবুজ আলীর দাবি, যাদের কারণে ঝামেলা হয়েছে, তারা ঘনিষ্ঠ কোন স্বজন নন।

সবুজ আলী বলেন, সেই ঝামেলার পর যখন দুই পরিবারের মুরুব্বি, গ্রামের মাতবর মিলে বৈঠকে বসেন, সেই সময়েও তিনি চেয়েছেন যে, তার স্ত্রীকে তিনি বাড়িতে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তার শ্বশুর রাজি হননি। তবে সেদিন রাতে তিনি ঘুমাতে পারেননি।

সবুজ আলী বলেন, ঝগড়ার সময় আমার কথা কেউ শোনেনি। আমি তখনি বলছিলাম, আমার বউকে আমি নিয়ে যাব।

সবুজ আলী আরো বলেন, আমি বাড়িতে এসে রাগে বাসর ঘরের ফুল-টুল সব ছিঁড়ে ফেলছি। সারারাত ঘুমাতে পারি নাই, কান্নাকাটি করছি। পরের দিন সকালে মেঝ ভাবীর ফোনে আমার ওয়াইফ ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করতে শুরু করে। সে বলে আমি থাকব না, আমি চলে আসব। পরে আমরা গেলাম।

তিনি জানান, সন্ধ্যার সময় একটি মোটরসাইকেলে করে তারা মেয়েকে নিয়ে আসেন। তারপর একটি কাজী অফিসে তারা আবার বিয়ে করে স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

বিদেশে থাকতেই মোবাইলের মাধ্যমে স্ত্রী সুমির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হতো। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

কনে সুমি খাতুন বলেন, সেদিন তার খুব খারাপ লাগছিল। সারারাত কান্নাকাটি করছিলেন। স্বজনরা তাকে বোঝাচ্ছিলেন যে, যা হওয়ার হয়ে গিয়েছি। তার অভিমানও হয়েছিল, কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, আমি ওর (সবুজ আলী) কাছে যাব।

সুম বলেন, আমি সকালে হ্যালো কওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেও কানতে (কান্না করতে) শুরু করলো, আমিও কানতে শুরু করলাম। আমি কইলাম, আমি তোমার কাছে আজকেই চলে আসব।

সন্ধ্যায় এক কাপড়ে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে আসেন বলে জানান।

তার পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও পালিয়ে আসার পর থেকে তার বাবার সঙ্গে আর কোন কথা হয়নি বলে সুমি জানান।

কনে সুমির বাবা নজরুল ইসলাম টেলিফোনে বলেন, সে চলে গেছে তার ভাগ্য নিয়ে, এখন আমি আর কি বলবো। সে বড়দের কথা শুনলো না। একদিক থেকে অবশ্য ভালোই হয়েছে। যার সাথে বিয়ে হয়েছিল, তার সাথেই আবার বিয়ে হইছে।