পাথরঘাটা প্রতিনিধি : পাথরঘাটায় ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সুপার জালাল আহমেদের বিরুদ্ধে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার আড়ালে নাম বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ওই মাদ্রাসাতেই কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সরেজমিন এ অভিযোগের সত্যতা মেলে। তবে সুপারের দাবি একাডেমী সুপার ভাইজারের সাথে আলোচনা করেই কিন্ডারগার্টেন খোলা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কালমেঘা ইউনিয়নে অবস্থিত কালমেঘা দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ী শাখা বন্ধ করে কালমেঘা কিন্ডারগার্টেন নামে শাখা খুলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে এবং এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক দিয়েই ক্লাস পরিচালনা করছে মাদ্রাসার ওই সুপার।

এ ছাড়াও ইবতেদায়ী শাখার শিক্ষার্থীদের ক্লাসেই কিন্ডারগার্ডেন শাখার শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন ইবতেদায়ীর শিক্ষকরা।

সহকারী শিক্ষকদের দাবি, মাদ্রাসার সুপার তাদেরকে বাধ্য করছেন এখানে ক্লাস নিতে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অভিভাবকরা জানান, একই মাদ্রাসায় এবতেদায়ী শাখা বন্ধ করে আলাদা শাখা খুলে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সুপার। এ নিয়ে কথা বলতে গেলেও তারা কেউ কথা বলতে পারছেন না। তাদের দাবি, ওই সুপার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলছে না।

প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষক জানান, এবতেদায়ী শাখা থাকার পরেও সুপার নিজেই কিন্ডারগার্টেন করেছেন। এতে ইবতেদায়ী শাখার শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্খিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কিন্ডারগার্ডেন শাখার শিক্ষার্থীদের বেশি খেয়াল নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও মাদ্রাসা কমিটির সাবেক সভাপতি মো. ফারুক বলেন, এর আগেও সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও রয়েছে। এছাড়াও অন্য একটি মামলা দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে ওই মাদ্রাসার সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বই ও বিস্কুট দিয়ে পরিচালনা করেছেন। আর আমি ম্যানেজিং কমিটি ও একাডেমিক সুপারভাইজারের সাথে আলাপ করেই তৃতীয় শ্রেণীর পর্যন্ত কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসা চালাচ্ছি।

মাদ্রাসার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এটা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি এম মতিউর রহমান বলেন, এমপিওভুক্তি প্রতিষ্ঠানে এমন কিন্ডারগার্ডেন করার নিয়ম আছে কিনা আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পাথরঘাটা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান বলেন, কালমেঘা দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শাখার সাথে কিন্ডারগার্ডেন চালানোর বিষয়টি জানতাম না এবং আমারা কোন অনুমতি দেইনি। আমাদের না জানিয়েই কিন্ডারগার্ডেন পরিচালনা করে আসছেন তারা।