এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলামের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম বাবু ও তার পিতার কাছে অস্ত্র রেখে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে র‌্যাব-১২’র (সিরাজগঞ্জ ও পাবনা) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১২ টায় পৌর শহরের কালিবাড়ি রোডে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে পাংশা/রাজবাড়ী আওয়ামী লীগ, শিল্প ও বণিক সমিতি এবং স্থানীয় জনসাধারণ সহ আনুমানিক পাঁচ শতাধিক লোক অংশ নেন।

মানববন্ধন কারীরা রবিউল ইসলাম বাবু ও তার পরিবার এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য জিল্লুল হাকিমের ইন্ধনে র‍্যাব-১২ সিরাজগঞ্জের এ,এস,পি কিশোর রায় কর্তৃক হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ (অবঃ) বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, পাংশা উপজেলা নির্যাতিত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আহম্মদ হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইদ্রিস মন্ডল, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক মন্ডল, পাংশা উপজেলা যুবলীগের সংগ্রামী নেতা মারুফ খান, সরিষা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুস সোবাহান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জের এ,এস,পি কিশোর রায় সহ অন্য সদস্যরা রবিউল ইসলাম বাবু সহ একাধিক আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। র‌্যাবের ভয়ে আমরা পরিবার নিয়ে এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। তাই বাধ্য হয় এমপি জিল্লুল হাকিম ও র‍্যাব-১২’র (সিরাজগঞ্জ ও পাবনা) বিরুদ্ধে এই মানববন্ধন।

এই হয়রানির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, র‍্যাব এর মহাপরিচালকের নিকট দাবি জানান পাংশা উপজেলা আওয়ামী ও ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য সহ স্থানীয় জনসাধারণ।

উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে রবিউল ইসলাম বাবু এবং তার পিতাকে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে ফিল্মী কায়দায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা জানতে পারে এরা র‌্যাব-১২ এর সদস্য। বাবু ও তার বাবাকে একটি মাইক্রোতে তুলে চর-আফড়া মধ্যেপাড়া নিয়ে প্রায় ১ ঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখে।

এর পর র‍্যাব সদস্যরা অন্য এক বাড়ীতে যায়। ঐ এলাকাতে গাড়ী দাড় করিয়ে গাড়ীর মধ্যে থাকা ব্যাগ থেকে অস্ত্র ঢেলে এলাকাবাসির জোর করে স্বাক্ষী ও ভিডিও করে। পরে বাবু ও তার পিতাকে বাড়ীতে রেখে যাওয়ার আগে বিভিন্ন হুমকি দেয়। নেতৃত্বে থাকা র‍্যাব কর্মকর্তা তাকে বলে তুই এমপির সাথে গিয়ে দেখা করবি। তা না হলে তোর জন্য সামনে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।

পরে বাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে তাদের দুজনকে যিনি উঠিয়ে নিয়ে যান তিনি র‌্যাব-১২ সিসিপি-২ কোম্পানি কমান্ডার সিরাজগঞ্জের এ.এস.পি কিশোর রায়।

এমন একটি লিখিত বক্তব্যবের কাগজ স্বাক্ষর সহ গত ২৩ সেপ্টেম্বর র‍্যাব-১২’র বিরুদ্ধে করা এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের দেন বাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা। ওই সময় র‍্যাব কর্তৃক হুমকি দিয়ে জোর পূর্বক স্বাক্ষী নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সত্যতা স্বীকার করে কথা বলেন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে পাংশা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, পাংশা থানার রেকর্ড অনুযায়ী অস্ত্রধারী বা অস্ত্র ব্যবসায়ীর তালিকায় রবিউল ইসলাম বাবু কিংবা তার পরিবারের কোনো সদস্যদের নামে কোনো অভিযোগ নেই। তবে গত বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) পাংশা থানাধীন চর-আফড়া মধ্যেপাড়া এলাকার মিরাজ মোল্লা ও সাচ্ছু মন্ডলের মুদি দোকানের মাঝামাঝি ইটের সলিং রাস্তার পাশে পরে থাকা পাঁচটি সচল অস্ত্র জব্দ করে র‍্যাব-১২। পাংশা মডেল থানায় পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দকৃত মালামাল জমাকরণ ও সাধারণ ডাইরি প্রসঙ্গে একটি লিখিত দরখাস্ত করেন সিসি-২, র‍্যাব -১২ পবনার এস আই (নিঃ) মোঃ হেমায়েত হোসেন।