এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : পাংশা পৌরসভার মহাসড়কের পাশে প্রতিদিনই ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের উৎকট দুর্গন্ধ সহ্য করে রাজবাড়ী-কুস্টিয়া মহাসড়কের সংলগ্ন পাংশা কলেজ মোড়ের এই এলাকা পার হতে হয়। দিন যতই যাচ্ছে ততই বড় হচ্ছে ময়লার স্তূপ। পাশাপাশি পঁচা বর্জ্যে মশার উপদ্রবও দেখা দিয়েছে। পৌরবাসীরা বলেন, ডেঙ্গু মশা তৈরীর কারখান এটি। তা ছাড়া ওই সকল পঁচা-দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে রোগ-ব্যাধির। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

বর্ষামৌসুমে একটু বৃষ্টি হলে এসব বর্জ্য মূল সড়কেও অনেক সময় গড়িয়ে চলে আসে। পুরোসড়কটিই যেন এখন আবর্জনার ভাগাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে ময়লা ফেলায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ ছাড়া পাংশা উপজেলায় পৌর শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে এলাকাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পৌর শহরে অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি চলাচলের জন্য নির্মিত সেচ লাগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি থাকায় সেখান থেকে এডিস মশার বংশ বিস্তার ঘটছে এবং সারা বছরেও এলাকায় এডিস মশক নিধনে কোনো স্প্রে না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় লোক দেখানো স্প্রে করা হলেও তাতে মশা নিয়ন্ত্রণ হয় না বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল।

পাংশা শহরেই রয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা,হাসাপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিস প্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও রয়েছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের অংশে দিনের পর দিন এমন বিশ্রী ও বেহাল পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্টরা এসব বর্জ্য অপসারণে কোনো ভূমিকাই রাখছে না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা ছাড়াও মহাসড়কটি দিয়ে শিক্ষার্থী, দিনমজুর, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। এতে প্রতিদিনই তাঁদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন পাংশায় ময়লার স্তূপে উৎকট দুর্গন্ধ এ মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজারো যানবাহন চলাচল করে থাকে। পাংশা উপজেলা অফিসে বা শহরে ঢুকতে হলে এই সড়ক দিয়েই ঢুকতে হয়। অথচ সড়কের কলেজ মোড়ের এই অংশে এমন আবর্জনার ভাগাড় উপজেলার সৌন্দর্য সম্পর্কে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দাদের নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

প্রতিক্ষণই সড়কের পাশ দিয়ে নাক চেপে যাচ্ছেন সকলেই। তারা বলেন আমাদের বাসা এই এলাকাতেই। প্রতিদিনই দুর্গন্ধ সহ্য করে পথ চলতে হয়। বছরের পর বছর ধরে এমন অবস্থা চললেও এসব আবর্জনা অপসারণে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। পথচারিরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কের পাশে ও বাস টার্মিনাল এলাকায় আবর্জনা ফেলে এমন নোংরা একটি অবস্থা তৈরি করা হয়েছে, এটি কোনোভাবেই সহনীয় নয়।

বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য এখানে ফেলা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। প্রতিদিন ময়লার স্তুূপ পেরিয়ে আশপাশের অন্তত কয়েক হাজার বাসিন্দাকে এ সড়ক মাড়াতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে নাকে-মুখে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হয়।

পাংশা পৌর মেয়র ওয়াজেদ আলী মন্ডল জানান, পাংশা পৌর এলাকার বজ্য ফেলার নিদৃষ্ট স্থনেরই ময়লা ফেলা হচ্ছে। তবে মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শিঘ্রই সমাধনে উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

তবে পাংশা পৌরবাসীর দাবি ডেঙ্গু মশার এই কারখানা অবিলম্বে বন্ধ করে শহরের বাইরে বজ্য ফেলা হোক।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। পৌর এলাকা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানান। ডেঙ্গু রোধে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগেও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ অর্ধশতাধিক রোগী ইতোমধ্যে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে জানান উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা।