এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর পাংশায় সম্প্রতি শ্বশুড়বাড়িতে কাঠমিস্ত্র গোপাল বিশ্বাস হত্যায় ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তলসহ দুটি অন্ত্র-গুলি উদ্ধার ও এক মহিলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পাংশা মডেল থানা পুলিশ।

অস্ত্র-গুলি উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন পাংশা মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মাসুদুর রহমান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার নাওড়া বনগ্রামের তুষার বিশ্বাসের ছেলে বাঁধন বিশ্বাস (১৯), মন্টু শিকদারের ছেলে আশিক শিকদার (২২) এবং তপু সরকারের স্ত্রী উর্মী শিকদার (২০)।রাজবাড়ীর পাংশা সাকের্লের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন কুমার সাহা জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাতে গোপাল বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামি বাঁধন বিশ্বাস ও আশিক শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে একই মামলার পলাতক আসামি বিলজোনা গ্রামের কৃষ্ণচন্দ্র সিংহর বসতঘরের পূর্ব পাশে খড়ের পালার মধ্য থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, একটি গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানান, একই মামলায় অপর পলাতক আসামি তপু সরকারের স্ত্রীর কাছে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটারগান রয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যমতে তপু সরকারের স্ত্রী উর্মী শিকদারকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে উর্মী শিকদারের তথ্যমতে তার পিতার বাড়ির ঢাকনাবিহীন টয়লেটের রিং স্লাবের ভেতর থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো একটি ওয়ান শুটারগান (এলজি) উদ্ধার করা হয়।

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, আসামিরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রেখে অস্ত্রের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করত।

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোপাল বিশ্বাসকে গুলি করা হয়। গত ৭ মে ভোরে ঢাকা মেকিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় একই দিনে নিহত গোপাল বিশ্বাসের ভাই পরিমল বিশ্বাস বাদী হয়ে নিহত গোপাল বিশ্বাসের শ্যালক বিজন সরকারকে প্রধান আসামি ও নিহত গোপাল বিশ্বাসের স্ত্রী চায়না সরকারকে আসামি করে পাংশা মডেল থানায় ৩০২/২০১ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ মে আসামি বিজন সরকার ও চায়না সরকারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে পাংশা থানা পুলিশ। আসামি বিজন সরকার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে বিজন সরকার ও চায়না সরকারকে কারাগারে পাঠায় আদালত।