মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : মাদক কারবারির হামলায় নিহত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এএসআই পেয়ারুল ইসলাম এর হত্যা মামলার একমাত্র আসামী পারভেজ রহমান পলাশকে গত বৃহস্পতিবার আদালত তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায়। রিমান্ডের একদিন পরই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন তিনি।

রংপুর পিবিআই পুলিশের এসপি জাকির হোসেন জানান, এএসআই পেয়ারুল ইসলাম হত্যায় বিকেলে মাদক কারবারি পারভেজ রহমান পলাশকে আদালতে নেয় পিবিআই। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

মেট্রোপলিটন হাকিম আল মাহবুবের আদালতে শুক্রবার সন্ধ্যায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন পলাশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

পিবিআই (রংপুর) পুলিশের এসপি জাকির হোসেন খোলাবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ খুনি মাদক কারবারি পারভেজকে আদালতে নেয় পিবিআই। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার আদালত পারভেজকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায়। এক দিন পরই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন পুলিশ খুনি পারভেজ রহমান পলাশ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাত সড়ে এগারোটার দিকে হারাগাছ থানার এএসআই পিয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নগরীর বাহার কাছনা এলাকায় জাহিদুল ইসলামের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী পারভেজ রহমান পলাশ (২৬)কে ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করে পুলিশ।

এ সময় আসামী পলাশ পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই পিয়ারুলকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই অপারেশন করার পর চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে শনিবার সকাল ১১ টা, ১৭ মিনিটে তিনি মারা যান। ঘটনার সময় পলাশকে পুলিশ গ্রেফতার করেন। হারাগাছ থানার এসআই জোতিষ চন্দ্র বাদি হয়ে মাদক ও এসআই জিল্লুর রহমান বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। বর্তমানে মামলা দুটি তদন্ত করছে পিবিআই।

পুলিশের এএসআই পেয়ারুল ইসলাম ২০১১ সালের ১৫ জানুয়ারি পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন। পদোন্নতি পেয়ে ২০১৮ সালের অক্টোবরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে এএসআই পদে যোগ দেন তিনি। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামে।