খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : শিক্ষামন্ত্রী আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে এসএসসি ও এইচএসসি’র যে সংক্ষিপ্ত পরীক্ষা নেয়ার কথা বলেছেন তা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। আবার তার কথার মধ্যেই অটোপাসের ইঙ্গিত আছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি জানিয়েছেন, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নভেম্বরে এসএসসি এবং ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে। তবে তাও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। পরিস্থিতি অনুকুল না হলে অ্যাসাইনসেন্ট ভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হলো করোনা সংক্রমণ শতকরা পাঁচ ভাগের নিচে না নামলে সরাসরি কোনো পরীক্ষা নয়।

গত বছর এইচএসসিতে অটোপাস দেয়া হয়েছে। এবার এসএসসি ও এইচএসসি দুটিতেই অটোপাস দেয়া হতে পারে। এই পরীক্ষা গত ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলে নির্ধারিত ছিলো। তখন করোনা সংক্রমণ এই সময়ের চেয়ে অনেক কম ছিল। ১০ ভাগের নিচে নেমে গিয়েছিল। আর এখন ৩০ ভাগের বেশি। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরিস্থিতি কী হবে তার আগাম কোনো তথ্য দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে না আসলে পরীক্ষা হবে না।

পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলেও বাংলা ও ইংরেজি এসব আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে না। পরীক্ষা হবে বিভাগ অনুযায়ী নৈর্ব্যক্তিক বিষয়ের। তাও আবার ৫০ নাম্বারের দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা। অন্যান্য বিষয়ে আগের আগের পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। আর পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে এসাইনমেন্ট ভিত্তিক মূল্যায়ন হবে। যার কাজও শুরু হয়েছে।

গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করোনার কারণে বন্ধ আছে। বিশ্বের যে ১৯টি দেশে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে তারমধ্যে বাংলাদেশ একটি। এরই মধ্যে ইউনিসেফ ও ইউনেস্কো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার আহবান জানিয়েছে। কিন্তু এ দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য যে প্রস্তুতি প্রয়োজন তা নেয়া হয়নি এখনো। আর এই দীর্ঘ সময়েও করোনার মধ্যে কীভাবে শিক্ষা ও মূল্যায়ন চালিয়ে যাওয়া যায় তার কোনো সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, “আসলে পরিকল্পিতভাবে কিছু করা হচ্ছে না। যদি সরাসরি পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ তৈরি হয় তাহলে দেড় ঘণ্টা কেন? পুরো পরীক্ষাই নেয়া হোক। আবশ্যিক বিষয় বাদ দেয়া হচ্ছে কোন বিবেচনায়? আমাদের কাছে কি এমন কোনো গবেষণা আছে যে অষ্টম শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী গণিতে যে নাম্বার পান এইচএসসিতেও সেরকমই পান।”

তিনি বলেন, “করোনার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় এখনো কোনো ধারণায়ই পৌঁছতে পারেনি। ফলে তাদের কোনো পরিকল্পনাও নাই। তারা শুধু কিছু দিন পর পর বলে স্কুল কলেজ খুলবেন। কিন্তু স্কুল খুলতে তারা কোনো রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা দেয়নি।”

তার মতে, “সব বিষয় মিলিয়ে চার ঘণ্টা ধরে একদিনেও একটি পরীক্ষা হতে পারে। আবার মূল্যায়ন পদ্ধতিও হতে পারে। কিন্তু তার জন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা সচল রাখার কোনো পদ্ধতি কি এখনো তৈরি করা হয়েছে?”

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা নয়, পড়াশোনার মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষা। আর এই মূল্যায়নের জন্য নানা স্বীকৃত পদ্ধতি আছে। সেটা যে একমাত্র শারীরিকভাবে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা দিতে হবে তা নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, “অনলাইন শিক্ষা বলতে এই করোনায় আমাদের এখানে মনে করা হয়েছে ফেসবুক বা জুমের মাধ্যমে পড়াশোনা। আসলে তা নয়। অনলাইন শিক্ষা একটি অনলাইন প্ল্যাটফরম। যার মাধ্যমে শিক্ষা, মূল্যায়ন সবই করা হয়। আমরা এই সময়ে সেই প্লাটফরম গড়ে তুলতে পারিনি। বিকল্প হতে পারত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবে। ”

বাংলাদেশে এই করোনায় এখন পরীক্ষা নিয়েই যত উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। শিক্ষা সচল রাখার কোনো চেষ্টা তেমন নেই। এবার বাজেটেও অনলাইন শিক্ষায় নতুন কোনো বরাদ্দ নেই।

ড. কায়কোবাদ বলেন, “করোনায়ও শিক্ষা সবচেয়ে অবহেলিত। নেই প্রণোদনা। ভ্যাকসিনেও নেই অগ্রাধিকার। নেই গবেষণা।”

আর মজিবুর রহমান মনে করেন, “করোনায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার অদক্ষতা ও দৈন্য সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পেয়েছে। আর এই খাত নিয়ে কোনো চিন্তাই করা হচ্ছে না।” – তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে