নিজস্ব প্রতিবেদক : পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র পরিবেশ স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি কমিটির উদ্যোগে আজ “জাতীয় বাজেট ২০২১-২২: স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ”-শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা একথা বলেন। আলোচনা সভা ‘জুম’ প্লাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও রোগ নিয়ন্ত্রণের সাবেক পরিচালক, ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা এবং বাপা’র পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক, ড. এ. এম. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপা’র পরিবেশ স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি কমিটির সদস্য-সচিব লেখক ও গবেষক বিধান চন্দ্র পাল।

আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান, জাতীয় স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ও বি এম এ এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, কৃষি অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহম্মাদ।

এ ছাড়া এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাপা’র কোষাধ্যক্ষ, মহিদুল হক খান, বাপা সাধারণ সম্পাদক, শরীফ জামিল, যুগ্ম সম্পাদক, আলমগীর কবির, নির্বাহী সদস্য, ফরিদা আক্তার, আতাউর রহমান মিটন এবং বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড পাটির এড. জিয়াউর রহমান।

মূল প্রবন্ধে বিধান চন্দ্র পাল বলেন, তথ্য উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করে, বাজেটটি পরিবেশ দৃষ্টিকোণ থেকে আবারও পুনর্মুল্যায়ন করে, পরিবেশ রক্ষার ওপর জোর দিয়ে এবং প্রতিবেশ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দিতে সরকারের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া দরকার পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনার দিকে।

ড. এ. এম. জাকির হোসেন বলেন, পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা ঠিক হবে না। কয়লা, পেট্রোল বা পলিথিন ও প্লাষ্টিক পোড়ানোর ফলে যে গ্যাস তৈরি হয় তা যে শুধু বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি করে তা নয়, তা মানুষের শরীরে ক্যান্সারের অন্যতম একটি কারণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ড. আতিউর রহমান বলেন, বর্তমানে কোভিড, জলবায়ু পরিবর্তন ও বায়োডাইভারসিটি গোটা বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। কোভিডকালে আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি প্রকৃতি আমাদের কতটা সহায়ক। সরকার প্রকৃতিতে বিনিয়োগ করে কখনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে প্রকৃতির অন্যতম অবকাঠামো সুন্দরবন বারবার তার বুক এগিয়ে দিয়ে আমাদেরকে রক্ষা করে।

তিনি বলেন, ফসিল ফুয়েল ইনভেস্টমেন্ট ইজ এ বেড ইনভেস্টমেন্ট। রিনিউয়েরবল এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট ইজ এ গুড ইনভেস্টমেন্ট। গুড এবং বেড এর মধ্যে যে টেনশন সেটা আমরা কীভাবে মোকাবেলা করছি সে বিষয়গুলো সারা পৃথিবী এখন নজর দিচ্ছে, ফলে আমাদের বাজেটেও সেদিকে নজর দেবার প্রয়োজন আছে বলেও এ সময় তিনি উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, মানুষ দুটি দিক থেকে রোগাক্রান্ত হয়ে থাকে একটি হলো পরিবেশ এবং অন্যটি মানুষের লাইফস্টাইল। সুতরাং মানুষের অসুস্থতার জন্য পরিবেশের বিষয়টি অবজ্ঞা করার কোনো অবকাশ নেই।

দেশের পুরোস্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন, আমাদের মনোস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন প্রয়োজন উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে বাজেটের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং চিকিৎসা বর্জ্যের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জনান তিনি।

অধ্যাপক আনু মুহম্মাদ বলেন, আমাদের নীতি নির্ধারকদের দর্শনগত পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি দেশের জিডিপি বৃদ্ধি করার আহবান জানান, তবে পরিবেশ, বন, নদী, পাহাড় ধ্বংসের মত প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে নয়। যে সমস্ত প্রকল্পের কারণে দেশের পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস হচ্ছে এগুলো কোনোভাবেই উন্নয়ন প্রকল্প হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।তিনি পরিবেশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মমংস্থান খাতে বাজেট বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন।

শরীফ জামিল বলেন, সরকারের প্রনীত এই বাজেটের মাধ্যমে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সংরক্ষনে দর্শনগত পরিবর্তন প্রয়োজন বলে প্রতিয়মাণ হয়।