ফাইল ছবি

‌রবিউল হাসান রবি, চট্টগ্রাম ব্যুরো : ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর প্রভাব পড়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জেও। একদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি ভোগ্যপণের দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা। এতে ভোগান্তির মুখে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।

এদিকে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা চাল-ডাল, পেঁয়াজ-রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে দেশের অন্যতম ভোগ্যপণ্যের বাজার চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জেও। এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। বেড়েছে আদা, হলুদসহ মসলা জাতীয় অন্যান্য পণ্যের দামও।

পাইকাররা বলছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন ক্রেতাও বিক্রেতা উভয় পক্ষই।

ক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খেসারত দিতে দিতে আমাদের মত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষদের এখন চিন্তার ভাঁজ কপালে উঠেছে। কারণ আমাদের যে সীমিত আয়, তা দিয়ে বাসা ভাড়া, ওষুধ খরচের যোগান দিয়ে দৈনন্দিন বাজার খরচের সাথে মিল করতে পারছিনা। এমন অবস্থা চললে একবেলা খেলে আরেক বেলা উপোস করতে হবে।

খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, কদিন আগেও পাইকারি দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর থেকে পরিবহন ব্যয় বাড়ার অজুহাতে পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৪১ থেকে ৪২ টাকায় আর খুচরা বাজারে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চীন থেকে আমদানিকৃত রসুন প্রতি কেজিতে কয়েক দিন ছিলো ৯৫ থেকে ৯৬ টাকা, এখন প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে আর খুচরায় রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

অপরদিকে, দেশি মিনিকেট এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায় যা আগে প্রতি বস্তা দেশি মিনিকেট ২ হাজার ৩৫০ টাকা। বর্তমানে প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০ টাকা যা আগে ছিলো ২ হাজার ৯৫০ টাকা । এখন প্রতি বস্তা সিদ্ধ মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৫০ টাকা যা আগে ছিলো ২ হাজার ২৫০ টাকা। প্রতি বস্তা নাজিরশাইল ২ হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন হচ্ছে ৩ হাজার ৫০ টাকায়। এভাবে বাড়ানো হয়েছে অন্যান্য চালের দামও ।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবহন ধর্মঘট দ্রুত সমাধান ও জ্বালানি তেলের দাম কমানো না হলে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে। জ্বালানি তেলের দাম কমানো না হলে দেশের কৃষি খাত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে। এতে দ্রব্যমূল্যে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।

অভিযোগ আছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোকে কেন্দ্র করে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন পরিবহন মালিকরা। সেই অজুহাতে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দামও। মিয়ানমার ও ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ টেকনাফ ও খুলনার বেনাপোল বন্দর দিয়ে ট্রাকে করে আনা হয় খাতুনগঞ্জে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা হাজি মো. ইদ্রিস খোলাবার্তাকে বলেন, ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বেনাপোল বন্দর থেকে আনতে প্রতি ট্রাক ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিলেও এখন তা চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে বেশি নিচ্ছে। তাই পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সাথে সাথে ভোগ্যপণ্যের দামও বেড়েছে কয়েকগুণ বেশি।
তিনি বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের আগে টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে এক ট্রাক পণ্য আনতে ২২ হাজার টাকা নেওয়া হলেও এখন খরচ হয় ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা। এতে পণ্যের দামেও প্রভাব পড়ছে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ চাল ব্যবসায়ী মাইশা এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্ত্বাধিকারী মো.আব্দুল মান্নান বলেন, ভারত, পাকিস্তান থেকে চাল আমদানি ছাড়াও দেশের ময়মনসিংহ, আশুগঞ্জ নওগাঁ, দিনাজপুর, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চাল চাক্তাই খাতুনগঞ্জসহ নগরীর পাহাড়তলীতে আনা হয়।

জ্বালানি তেলের বৃদ্ধির ফলে খাতুনগঞ্জে প্রতি বস্তায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রতি টন চাল পরিবহনে আগে ভাড়া পড়ত এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। এখন প্রতি টনে তা প্রায় সাড়ে তিনশ টাকা করে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে চালের দাম বাড়ছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, অসাধু ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এক এক সময় এক এক পণ্যের দাম বাড়ায়। কিন্তু এখন তেলের দাম বাড়ানোর অযুহাতে পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে এর প্রভাব পড়েছে ভোগ্যপণ্যের দামেও।

তিনি বলেন, এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবহন ভাড়া বাড়ানো হয়নি। তবু যাত্রীদেরকে জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ।