এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : পদ্মায় পানি কমতে থাকায় ও উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোতে নদী ভাঙ্গনের কবলে পরেছে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের চারটি গ্রাম। প্রতিদিনই ভাঙ্গনে শত শত একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে।

সৌতের তীব্রতায় ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে সিসি ব্লকে বাঁধানো নদী তীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। এতে মারাত্মক হুমকিতে পরেছে হাজার হাজার একর ফসলী জমি ও কয়েকশ ঘরবাড়ী ও স্থাপনা।

গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মায় পানি কমতে থাকায় নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। এতে জেলা সদরের মিজানপুর ইউনিয়নের চারটি গ্রাম মহাদেবপুর কালিতলা, চরসিলিমপুর, বড়চর বেনিনগর, রামচন্দ্রপুর গ্রামের ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র নদী ভাঙ্গ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই ভাঙ্গনের কবলে পরে বিলীন হচ্ছে শত শত একর ফসলী জমি।ভাঙ্গন হুমকিতে পরেছে এসব এলাকার কয়েকশ জনবসতি।

বড়চর বেনিগর এলাকার সিসিব্লকে বাঁধানো ৬০ মিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে এসব এলাকার মানুষের। বার বার ভাঙ্গনের কবলে পরে শত শত বিঘা জমি, বাড়ি ঘর হাড়িয়ে এখন দিশেহারা তারা। নানা ধরনের সবজি ও ডালের ক্ষেত, গাছপালা নদীতে বিলীন হওয়ায় চরম সংকটে পরেছেন এসব এলাকার ভাঙ্গন কবলিত মানুষ। ভাঙ্গন ঠেকাতে বালু ভর্তি জিওব্যাগের বস্তা ফেলা হলেও ভাঙ্গন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছেনা।

মিজানপুর ইউনিয়নের বড়চর বেনিনগর গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম জানান, এ বছর ২০ হাজার টাকা দিয়ে এক বিঘা পরিমাণ একটি জমি নিয়ে পটল চাষ করেছেন। কিন্তু ভাঙ্গনের কবলে পরে তার পটল ক্ষেত এখন নদীতে বিলীন হচ্ছে। প্রতিবছরই ভাঙ্গনের কবলে পরে তাদের জমিজমা ভিটেমাটি, ফসলী জমি সহ শত শত একর জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। বার বার ভাঙ্গনে এখন তাদের অবশিষ্ট আর কিছুই নেই। তার মত অত্র এলাকার রহিম মিয়া, সেলিম, জয়নাল শেখ সহ আরো অনেক ভাঙ্গন কবলিত মানুষ তাদের জমিজমা হারিয়ে দিশেহারা।বাড়ি ঘর হারিয়ে অন্যের জমিতে বসবাস করছেন। ভাঙ্গন ঠেকাতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান এ অঞ্চলের জনসাধারন।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অংকুর বলেন, নদীতে পানি কমে যাওয়া ও উজান থেকে নেমে আসা পানির স্রোত তীব্রতায় কিছু কিছু স্থানে ভাঙ্গন দেখ দিয়েছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে জিও ব্যাগের বস্তা ফেলা হচ্ছে।

এদিকে চরসিলিমপুরে সিসি ব্লকে বাঁধানো তীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়।সেখানেও বালু ভর্তি জিও ব্যাগের বস্তা ফেলার কাজ করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে যেন কোন স্থানে না ভাঙ্গে সেদিকে তৎপর রয়েছেন তারা।