আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) : ঘিওর উপজেলাসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার পথে প্রান্তরে এখন দৃষ্টি মেললেই বর্ণিল ‘সোনালু’র হলুদ রঙের সমারোহ। এর অপরূপ শোভা যে কারো মনকে ছুঁয়ে যায় নিঃসন্দেহে। একসময় গ্রাম-বাংলার পথে- প্রান্তরে সচরাচর সোনালু গাছের দেখা মিলতো। প্রকৃতি ধ্বংসের উৎসবে এই শক্ত প্রাণের বৃক্ষটিও বিলুপ্তির পথে হাঁটতে শুরু করেছে।

উপজেলার ঘিওর থানার মোড়, উপজেলা পরিষদ চত্বর, বানিয়াজুরী, রাথুরা-তরা রাস্তা, জাবরা, বালিয়াখোড়া, সিংজুরী, তেরশ্রী রাস্তা, সরকারী ডিগ্রি কলেজের পেছনের রাস্তা, পঞ্চরাস্তা মোড়, বরটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক, নালী-কেল্লাই সড়কের দুপাশে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জোকা-পুখুরিয়া রাস্তা, বাষ্টিয়া খেলার মাঠ, পয়লা গ্রামীণ রাস্তা, ভোর বাজার, আশাপুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সোনালু গাছের অপরুপ সৌন্দর্যের দেখা মেলে। হলুদ রঙের বাহারি শোভা ছড়িয়ে ঝুলে থাকা ফুলের সৌন্দর্য পথচলতি যে কাউকে মোহিত করে।

এসব গ্রামের সড়কের পাশে কিংবা পুকুর ধারে ফুটন্ত সোনালুর দোল দেখে মনে হয়- প্রকৃতির হলুদাভ উষ্ণ অভ্যর্থনা। এ ফুল দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি তার নামের বাহার- সোনালু, সোনাইল, সোঁদাল, বান্দরলাঠি ইত্যাদি।মানিকগঞ্জে বাঁদর লাঠি নামেই বেশি পরিচিত।

ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, এর ইংরেজি নাম- Golden Shower Tree, বৈজ্ঞানিক নাম- Cassia fistula। Caesalpiniaceae পরিবারের সদস্য। আদিনিবাস পূর্ব এশিয়া। এ গাছের ফল বেশ লম্বা, লাঠির মতো গোল। গাঢ় সবুজ রঙের পাতাগুলো যৌগিক, মসৃণ ও ডিম্বাকৃতির। ফুল এক থেকে দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত চওড়া হয়।

পরিবেশ ও প্রকৃতি বিষয়ক রিসোর্স সেন্টার বারসিক এর মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় বলেন, গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে প্রাণের সজীবতা নিয়ে যেসব ফুল ফোটে তার মধ্যে সোনালু উলে­খযোগ্য। কিশোরীর কানের দুলের মতো বৈশাখী হাওয়ায় দুলতে থাকে হলুদ-সোনালি রঙের থোকা থোকা ফুল। যখন ফুল ফোটে তখন কারো সাধ্য নেই এ’গাছকে দৃষ্টি না দিয়ে এড়িয়ে যাবার।

মানিকগঞ্জ সাধনা ঔষধালয়ের চিকিৎসক ডাঃ উত্তম কুমার পালিত বলেন, এ গাছের কাঠ জ্বালানি ছাড়াও অন্যান্য কাজে লাগে। ফলের শাঁস বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে কাজে লাগে। বাত, বমি ও রক্তস্রাব প্রতিরোধে উপকারী।

পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন জেলা কমিটির সহ-সভাপতি লক্ষী চ্যাটার্জ্জী বলেন, গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে গ্রামে একসময় অনেক সোনালু গাছ চোখে পড়তো। এছাড়াও হাট, বাজার ও গঞ্জের চারপাশেও দেখা যেত হলুদিয়া সাজের সোনালুর উপস্থিতি। এখন হাতেগোনা কিছু গাছ দেখা যায় পথে প্রান্তরে।

কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, এ গাছের কাঠ খুব একটা দামি নয় বলে কিংবা গাছটি খুব ধীরে বাড়ে বলেই কেউ আর তেমন উৎসাহ নিয়ে সোনালু গাছ রোপণ করেন না। প্রাকৃতিকভাবে যা হয়, তার ওপর ভর করেই হলুদ-সোনালি রঙের সৌন্দর্য বিতরণ করে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে সোনালু।