এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজুয়ান হোসেন আন্টুকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করার তৎপরতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে দিবর ইউনিয়ন বাসীর আয়োজনে (ব্যানারে) উপজেলার নকুচা মোড় এলাকায় ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সমর্থক আবদুল লতিফের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুর রউফ, মোখলেছুর রহমান ও নুরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ কর্মী শাহেদ আলি, আতিয়ার রহমান, শফি উদ্দিন প্রমুখ।

বক্তারা জানান, দিবর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজুয়ান হোসেন আন্টুর পিতা মোজাফফর হোসেন এলাকার চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন। তার দাদা অজির উদ্দিন (ঝটপটা) দিবর ইউনিয়নে পিচ কমিটির সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে অগ্নি সংযোগ, ধর্ষণ ও লুটপাট চালিয়েছেন। তাদের হামলায় এলাকার অনেককেই প্রাণ পর্যন্ত দিতে হয়েছে। তারা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জামাত-বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এবার অর্থের বিনিময়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয় আন্টুকে।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তাকে নৌকা প্রার্থী করার পাঁয়তারা করছেন উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতারা। যুদ্ধাপরাধী রাজাকার পরিবারের সদস্যকে নৌকার মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। মানববন্ধনে শতাধিক আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে বক্তব্য (মন্তব্য) জানতে সাংবাদিকরা রেজুয়ান হোসেন আন্টুনের ব্যক্তিগত সেল ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ এর পরই তিনি পত্নীতলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল গফফারের কাছে সেল ফোনটি দিয়ে দেন। আবদুল গফফার জানান, রেজুয়ান হোসেন আন্টু অনেক পরিশ্রমের ফলে ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন। দলের জন্যে অনেক শ্রমও দিয়ে থাকেন। ফলে কিছু লোক তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার সহ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করছেন।

পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল খালেক চৌধুরী জানান, কোনো যুদ্ধাপরাধীর পরিবারে সদস্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।