এম এ বাসেত, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : পঞ্চগড় জেলার সাবেক সিভিল ডাঃ পীতাম্বর রায় সাত বছর আগে সাধারণ ডেলিভারীতে জন্ম নেওয়া থ্রি-ইন-ওয়ান কন্যা শিশুকে দেখতে এলেন বাংলাবান্ধার পল্লী গ্রামে।

জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে নিজ প্রাইভেট কারে ১নং বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী ভুগরীভিটা গ্রামে ওই কন্যা শিশুদের বাড়িতে যান। এ সময় তেঁতুলিয়া হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় খন্দকার সামসুজ্জামান সংগে ছিলেন।

তিন কন্যার বাবা মাহা আলম জানান, ২০১৪ সালে তার স্ত্রীকে প্রসব বেদনায় তেঁতুলিয়া হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। তখন ডাঃ পীতাম্বর রায় তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাহা আলমের স্ত্রী হাসপাতালে জমজ ২টি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। কিন্তু পেটে আরও একটা কিছু আছে ভেবে কর্তব্যরত সেবিকাগণ তাকে জানান।

তিনি আরো জানান, এ সময় ডাঃ পীতাম্বর রায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন ওই প্রসূতির পেটে আরো একটি শিশু আছে। পরবর্তীতে তৃতীয় কন্যা শিশুটিকে নিরাপদে প্রসব করেন।

পরিবারের সদস্যরা ওই তিন কন্যা শিশুর নাম রাখেন মাইশা, মাফিয়া, মরিম। এই তিন কন্যা সন্তানের মা গর্ভধারণের পর থেকে ডাঃ পীতাম্বর রায়ের চিকিৎসাধীন ছিলেন। একইভাবে তার তত্ত্বাবধানে ও সুচিকিৎসায় তিন কন্যা বেড়ে ওঠেন। পরবর্তীতে ডাঃ পীতাম্বর রায় চাকুরীতে প্রমোশন পেয়ে উপ-পরিচালক হিসেবে ঢাকায় বদলী হন। সেখান থেকে পদোন্নতি পেয়ে সির্ভিল সার্জন হিসেবে যশোর ও পঞ্চগড়ে দায়িত্ব পালন করেন। পঞ্চগড় জেলা সিভিল সার্জন থাকাবাস্থায় বদলী হয়ে রংপুরে গিয়ে অবসর গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ডাক্তার পীতাম্বর রায় তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদানের পর আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে তেঁতুলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তিনি তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন চাকুরী করার সুবাদে উপজেলাবাসীকে নানামুখী চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি একজন বিজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসাসেবা দিতেন।

বর্তমানে অবসরে থাকাবস্থায় তিনি রংপুর থেকে তেঁতুলিয়ায় এসে প্রতি শুক্র ও শনিবার তেঁতুলিয়ার জনসাধারণকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। ডাঃ পীতাম্বর রায়ের চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রায় শতাধিক নিঃসন্তান মা সন্তান জন্ম দিয়েছেন। যে কারণে তিনি তেঁতুলিয়া উপজেলায় গাইনী ও প্রসূতি মায়েদের কাছে সাদা মনের মানবিক ডাক্তার হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।