আবু বাককার সুজন, বাগমারা (রাজশাহী) : রাজশাহীর বাগমারায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে আমি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত এবং দলকে অবশ্যই চেয়ারম্যান উপহার দিবো।

বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুস সালাম দলীয় মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। বর্তমানে তিনি গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্বপালন করছেন।

আগামী ইউপি নির্বাচনে গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুস সালাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ, কর্মিসভা, মতবিনিময় সভা, প্রচার মিছিল, পোস্টার সাঁটানো এবং লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দলের সকল কর্মসূচী পালনের পাশাপাশি দলের নেতাদের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন সার্বক্ষণিক।

গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান সুজন ও ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, দলের তৃণমূল নেতা-কর্মিরা আব্দুস সালামকে নৌকার প্রার্থী হিসাবে দেখতে চান। কারণ রাজনৈতিক জীবনে আব্দুস সালামের মতো বিচক্ষণ লোক খুবই কম দেখা যায়।

তাকে মনোনয়ন দিলে এই ইউনিয়নে নৌকার বিজয় হবেই ইনশাআল্লাহ। ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কমসেদ আলী ও ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি আফজাল হোসেন জানান, আব্দুস সালাম নীতি ও আদর্শে খুবই অটল। মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার কমতি নেই। তাকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক অনায়াসে জয়লাভ করবে।

মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুস সালাম বলেন, আমি ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আওয়ামী রাজনীতিতে প্রবেশ করি। এ কারণে এলাকার একটি সড়যন্ত্রকারী চক্র আমার ক্ষতি করার জন্য আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে।

এ কারণে রাজনৈতিক জীবনে আমাকে অনেক ত্যাগ ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ওই চক্রটি বারবার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়াসহ বিগত জোট সরকারের আমলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সাথে জড়িত করে আমাকে আইনের মাধ্যমে প্রাননাশের অপচেষ্টা চালায়। এতে আমার ব্যবসায়ী জীবনে চরম ক্ষতি হয়েছে। ওই চক্রটি ষড়যন্ত্র করে ২০০৭ সালে জরুরী ক্ষমতা আইনে সেনাবাহিনী দ্বারা আমাকে আটক করায়।

এ ছাড়া ওই চক্র ২০০৪ ও ২০০৭ সালে আমার বিরুদ্ধে আরো দুইটি সাজানো অভিযোগ ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করায়। কিন্তু পরবর্তীতে গ্রেফতার ও মামলার বিষয়ে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের গোপনে ও প্রকাশ্যে তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এর প্রেক্ষিতে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আমাকে ওইসব অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি দেন। কাজেই রাজনৈতিক জীবনে বহুবার আমাকে কঠিন বিপদের সম্মূখীন হতে হয়েছে। রাজনীতি করার কারণে আমাকে একাধিকবার জেলজুলুমসহ শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। অনেক কঠিন বিপদের মুখোমুখি থেকেও সে সব কন্টার্কীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে আজ আমাকে এ পর্যন্ত আসতে হয়েছে।

দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে আব্দুস সালাম বলেন- এবারের নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হওয়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে, গ্রামে ও পাড়া-মহল্লায় প্রচারনা চালিয়ে আসছি। তাছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত ইসলামী জালশাসহ প্রায় দুই শতাধিক বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সাধ্যমত আর্থিকভাবে দান করে সহযোগীতা করে আসছি।

বন্যাদূর্গত ও করোনাকালীন সময়ে কর্মহীন ও অসহায় মানুষকে আমি নিজস্ব অর্থায়নে সাহায্য করাসহ গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে যেভাবে সহযোগীতা করে আসছি তার মূল্যায়ন ইউনিয়নবাসী অবশ্যই করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। কাজেই গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার আশায় আমি দলীয় মনোনয়ন ফরম পূরন করে জমা দিয়েছি। আশা করি আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে অবশ্যই আমি বিজয়ী হবো এবং দলকে চেয়ারম্যান উপহার দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ্।