এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেছেন, ‘উনাকে (স্বতন্ত্র প্রার্থীকে) এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না, ভোটকেন্দ্রে ওনার কোনো এজেন্ট থাকবে না। আমরা গোয়ালন্দে করেছি। নৌকার সাথে যারা মীরজাফরি করেছে, তাদেরকে আর গোয়ালন্দে থাকতে দেই নাই।’

গত শনিবার রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ভাতসালা এলাকায় নৌকার প্রার্থীর পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ–সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তৃতীয় ধাপে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইসলামপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবদুল হান্নান। ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরাজিত হওয়া আহমদ আলী। আহমদ আলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বহিষ্কার হওয়া সদস্য।

নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘উনি আওয়ামী লীগের লোক ছিলেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কথা বলে উনি মোবাইল বন্ধ করে রেখেছিলেন। তাহলে এই কয়দিন তাঁকে এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কি বলেন আপনারা? ভোটকেন্দ্রে উনার কোনো এজেন্ট থাকবে না। নৌকার সঙ্গে যারা বেঈমানি করেছে, আমরা তাদের গোয়ালন্দে থাকতে দেই নাই।’

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আহমদ আলী বলেন, ‘তিন দিন আগে আমার চাচাতো ভাইকে বেদম মারধর করা হয়েছে। তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র এসে আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। আমি বিষয়টি নির্বাচন কর্মকর্তা, থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) এবং ইউএনওকে (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) মৌখিকভাবে জানিয়েছি। লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের নেতা নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘আমি ওই এলাকায় দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম। এগুলো আইনসম্মত নয়। এটা কথার কথা। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়। আমি ওই এলাকায় দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম, তাই একটু বলেছিলাম। এগুলো আসলে হুট করে বলাও ঠিক না।’

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আবদুল হান্নান বলেন, ‘এভাবে কথা বলা ঠিক নয়। বক্তৃতায় সবাই কি না বলে। আমি তাকে বলেছিলাম, সে–ও বলেছে, ঠিক হয়নি। রাজনীতিতে সবাই এ ধরনের কথা বলে।’

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। মৌখিকভাবে ওই ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলেছি। লিখিতভাবে অভিযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।’