নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ব্রাহ্মণের কাছে চাঁদা দাবিসহ তাকে নানাভাবে হেনেস্তার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত কাজী নয়ন (৫২) উপজেলার ১৬নং কাদিরপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের কাদিরপুর গ্রামের মৃত কাজী তোফায়েল আহমদের ছেলে।

শনিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি। তিনি বলেন, গতকাল শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতার আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামিকে উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের কাদিরপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার ২০ জানুয়ারি এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্রাক্ষণ গোপাল চক্রবর্তী (৬৭) বাদী হয়ে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে হত্যার চেষ্টা, চাঁদা দাবি, খড়ের গাদায় আগুন লাগানো, চুরিও ভয়ভীতি প্রদর্শনের করার অভিযোগে ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার ১০ জানুয়ারি উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের রজনী ডাক্তার বাড়িতে ঘটনার সূত্রপাত হয়। ভুক্তভোগী গোপাল চক্রবর্তী হিন্দু ধর্মের ব্রাহ্মণ। তিনি উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের রফিকপুর গ্রামের দক্ষিণ ঠাকুর বাড়ির মৃত গণেশ চত্রুবর্তীর ছেলে।

পেশায় তিনি একজন ব্রাহ্মণ হওয়ার ইতিপূর্বে উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের কাদিরপুর গ্রামের রজনী ডাক্তার বাড়ির অনীল চন্দ্র দাসের মৃত্যুতে শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করার সময়ে একই বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা নরেশ চন্দ্র দাস মৃত্যুবরণ করেন। এতে তিনি দুজন মৃতের শ্রাদ্ধ কাজ সম্পন্ন করেন। মৃতের পরিবার থেকে তাকে ব্রাহ্মণ হিসেবে কিছু প্রণামী দেওয়া হয়। অভিযুক্ত আসামিরা প্রণামীর বিষয়টি জানতে পেরে গত ১০ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ব্রাহ্মণের কাছে প্রণামীর অর্ধেক ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। নচেৎ তাকে হত্যা ও প্রণামীর টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দেয়।

বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানালে আসামিরা ঘটনাস্থলে এসে স্বাক্ষীদের শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে এবং গালমন্দ করে। পরবর্তীতে আসামিরা খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং টিউওয়েলসহ অন্যান্য মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এই বিষয়ে থানায় কোনো মামলা করলে ব্রাহ্মণকে হত্যা ও মামলার স্বাক্ষীদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়।

ওসি আরো জানায়, পুলিশ মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে।