নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল মদনে খাইরুল ইসলাম (৩০) নামে এক মুয়াজ্জিনকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্প্রতিবার সকালে উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের মাখনা গ্রামে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের পুত্র। নিহত আব্দুল খালেক দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এই হত্যাকার্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আব্দুল খালেক মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দৈনিক মজুরি হিসেবে এই বোরো মৌসুমে ধান কাটার কাজও করে থাকেন। মাখনা গ্রামের দুলাল ও হক মিয়ার সাথে একই গ্রামের এলাই মিয়ার জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।

বুধবার রাতে বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান কাটার জন্য দুলাল দুলাল ও হক মিয়া খাইরুল ইসলামকে প্রস্তাব দিলে অস্বীকার করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। বৃহস্প্রতিবার সকালে খাইরুল ইসলাম হাওরের অন্য জমিতে ধান কাটতে গেলে হক মিয়া ও তার শ্যালক বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান কাটার জন্য বল প্রয়োগ করতে শুরু করে।

এ নিয়ে বাগ্বিতন্ডার এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা খাইরুল ইসলামের হাতে থাকা কাস্তে কেড়ে নিয়ে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যা করে। রক্তাক্ত অবস্থায় মুয়াজ্জিন খাইরুল ইসলামকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাবার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মদন থানার ওসি ফেরদৌস আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, লাশের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।