নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনায় পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ছে। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবণতি ঘটায় পানিবন্ধীদের উদ্ধার ও বন্যার্থদের সহায়তার জন্য রোববার সকাল থেকে দ্বীপহাওর খালিয়াজুরিতে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এখন সম্মিলিতভাবে পানিবন্ধীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থান ও আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি বন্যার্থদের ত্রান সামগ্রী বিতরণ করছেন।

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন নেত্রকোনার ১০ উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। সীমান্তবর্ত্তী কলমাকান্দা ও সুসং দুর্গাপুর উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলায় শিশুসহ অন্তত পাঁচ লক্ষ নার-নারী পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন। প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি কিছুতেই সামাল দিতে না পারায় রোববার সকাল থেকে দুর্গম এলাকা দ্বীপহাওর খালিয়াজুরি উপজেলায় সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। তারা দিনভর পানিবন্ধীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন।

ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ পর্যন্ত ১৮৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২১ হাজার বন্যার্থরা আশ্রয় নিয়েছেন। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ায় ও পানিবন্ধীদের উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়ায় আশ্রয়ীদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রে শিশুসহ অসংখ্য নারী-পুরুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও অষুধ সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

পাহাড়ি নদী মোমেশ্বরী, গনেশ্বরী, উব্দাখালী মঙ্গলশ্রী, মহাদেও, কংশ, ধনু ও মগড়া নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার্থ সাধারন কৃষকগন তাদের গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়ায় বাধ্য হয়ে পশু নিয়েই আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১-বিজিবি) অধিনায়ক এএসএম জাকারিয়া গণমাধ্যমকে জানান, রোববার সকাল থেকে পানিবন্ধীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থান ও বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে তাদের মধ্যে ত্রান বিতরণ করা হয়েছে। বন্যার্থদের সাহার্যার্থে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নবাগত ডিসি অঞ্জনা খান মজরিশ সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যার্থদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ ও নগদ অর্থ সহায়তা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।