নেত্রকোনা প্রতিনিধি : টানা ভারী বর্ষণ ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকেনার সীমান্তবর্ত্তী কলমাকান্দা উপজেলা এখন পানির ন্যীছে। এছাড়া সুসং দুর্গাপুর, ও বারহাট্রা উপজেলাও বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

কশমাকান্দায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে তিন লক্ষ নারী-পুরুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে অসংখ্য নারী-পুরুষ বিভিন্নস্থানে ছুটাছুটি করছেন। বন্যা কবলিতরা কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়,চান্দুয়াই সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, উদয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল ও মাদরাসায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। আশয়ের অভাবে অনেকে এখন খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করছেন।

বিশেষ করে কলমাকান্দায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্ত্তী কলমাকান্দা উপজেলায় দুই তৃতীয়াংশ মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ওই উপজেলার অধিকাংশ বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। রাস্তাঘাটসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়ে পড়ায় বন্যা কবলিতরা বাড়িঘর ছাড়তে শুরু করেছেন। দুই সহস্রাধিক চাষকৃত পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

উপজেলার ৮ ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়ায় পশ্চিমবাজার, পূর্ববাচার, চাঁনপুর ও কলেজ রোডসহ অধিকাংশ এলাকায় হাটু আবার কোথাও কোমড় ও গলাপানি পানি থৈ থৈ করছে। উপজেলার পাহাড়ি নদী গনেশ্বরী, উব্দাখালী, মঙ্গলশ্বরী ও মহাদেও নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন রাস্তাঘাট পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে এখন প্রবল স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে।

কলমাকান্দা থানার ওসি আব্দুল আহাদ বলেন, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে এখন একাকার হয়ে গেছে। থানা কম্পাউন্ডও বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিতরা বিভিন্ন স্কুল ও মাদরাসায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। আবার অনেকে পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন।