নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মাঝাপাড়া পুটিহারি এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ২ নারীসহ ৭ জনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম পরিচালক হলেন খন্দকার আল মঈন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, জঙ্গি সন্দেহে ৭জনকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আটককৃতরা হলো মিনা বেগম (৩০), আফরোজা বেগম (৫০), জাহেদুল ইসলাম (২৮), ওহেদুল ইসলাম (২৬), ওয়াহেদ আলী (৩০), আব্দুল্লাহ আল মামুন সুজা (২৬) ও নুরুল আমিন (২৮)। আটককৃতদের সবাইকে রংপুর র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় । বিকেলে রংপুরে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টা থেকে জেলা সদরের মাঝাপাড়া পুটিহারি এলাকার শরিফ নামে এক ব্যক্তির বাড়ী ঘিরে রাখেন র‌্যাব-১৩ এর একটি দল। স্থানীয় থানা পুলিশের সদস্যরা আশপাশে অবস্থান নেন। শনিবার সকালে রংপুর থেকে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি টিম নীলফামারী সদরের ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

এরপর ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) ও লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক নীলফামারী সদর উপজেলার মাঝাপাড়া পুটিহারি এলাকার ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারপরই শুরু হয় অভিযান। অভিযানের খবর পেয়ে শরিফ পালিয়ে গেলেও শরিফের স্ত্রী ও শাশুরীসহ ৭জনকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয়েছে বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও উন্নত বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি)। ঘটনাস্থলে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি টিম কাজ করেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানান, আটকৃতরা সবাই জেএমবি সদস্য। এদের মধ্যে ওয়াহেদ বোমা তৈরীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। শরিফও জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত এবং তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান এই পরিচালক।

এলাকাবাসি জানান, শরিরের বাড়ী সদরের দারোয়ানী সুতাকল এলাকায়। সে কয়েক বছর আগে পুটিহারি এলাকায় তার নানার বাড়ীতে গিয়ে উঠেন। পরে তার নানা সেখানে জমি দিলে সে বাড়ী নির্মান করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সে রাজমিস্ত্রীর হেলপার হিসেবে কাজ করত বলে এলাকাবাসি জানান।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান বলেন, ঘটনাস্থলে আইইডি-সদৃশ একটি বিস্ফোরক দ্রব্য শনাক্ত করা হয়। সেটি নিষ্ক্রিয় করেছে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের একটি টিম।