বিট পুলিশিং সভায় বক্তৃতা করছেন সাম্প্রদায়িক হামলায় অভিযুক্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলায় অভিযুক্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক মিয়াকে পুলিশ রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্বেও তিনি দিব্যি চলাফেরা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি খোদ পুলিশের সাথে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।

সম্প্রতি উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভায় অংশ নিয়ে বক্তৃতা করছেন- এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক মিয়ার সাথে নাসিরনগর থানা পুলিশের রয়েছে বিশেষ সখ্যতা। সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িত এ আওয়ামী লীগ নেতা ২০২১ সালের নির্বাচনে হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তার প্রভাব আরো বেড়ে গেছে। ফলে শুধু তাকেই নয়, তার ছেলে সবুজের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় ওয়ারেন্ট থাকা সত্বেও বাবা ছেলের কাউকেই গ্রেফতার করছে না পুলিশ। এতে এলাকার সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়সহ সুশীল সমাজে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ফেসবুকে পবিত্র কাবাঘরকে নিয়ে অবমাননাকর ছবি পোস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাসিরনগর উপজেলা সদর ও হরিপুর গ্রামের হিন্দু পল্লীর মন্দির ও অর্ধশতাধিক ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করে দুস্কৃতিকারীরা। এ ঘটনায় মোট ৮টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানর ফারুক মিয়াসহ ২২৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। এ মামলায় অনেকে জামিন পেলেও চার্জশিট হবার পর ফারুক মিয়া হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

সম্প্রতি উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভায় উপস্থিত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ফারুক মিয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মহলে প্রশ্ন উঠে।

তবে হরিপুর বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাসিরনগর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক রুপন নাথ জানান, থানায় ওয়ারেন্ট থাকায় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিট পুলিশিং সভায় দাওয়াত দেয়া হয়নি। সভা চলাকালে তিনি হঠাৎ এসে উপস্থিত হয়ে যান। পরে বক্তৃতার সুযোগ দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাংচুর এবং লুটপাটের অভিযোগে চার্জশিটকৃত মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক মিয়ার নামে থানায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী পুলিশের সভায় উপস্থিত থাকতে পারে না। বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। সংশ্লিষ্ট অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আইনের চোখে সব অপরাধীই সমান। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’