ব্রাহ্মণবাড়িয়ানাসিরনগর প্রতিনিধি : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ইতিমধ্যে উপজেলার নি ম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে রাস্তাঘাট পানিত তলিয়ে গেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে করে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছেন।

ভানের পানির প্রবল স্রোতে তিতাসের বেড়িবাঁধ ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙ্গে উপজেলার সদরের সাথে গ্রামের মানুষের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া তলিয়ে গেছে আরো কমপক্ষে ৩০ কিলোমিটার পাকা-আধাপাকা সড়ক। বন্যার পানিতে প্লাবিত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার কারণে উপজেলার ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে উপজেলার বুড়িশ্বর, কুন্ডা, ভলাকুট গোয়ালনগর, ধরমন্ডল, গোকর্ণ, নাসিরনগর সদর ও চাপড়তলা ইউনিয়নের প্রায় ৮০ ভাগ বসতবাড়ি প্লাবিত হয়ে ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে দেড় শতাধিক বন্যার্ত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

বন্যাদুর্র্গত এলাকাগুলোতে গোখাদ্য, বিশুদ্ধ পানি আর শুকনো খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বন্যার্তরা। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া প্রত্যেক পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫ কেজি চাউল প্রদান করা হয়েছে বলে ইউএনও জানান।

বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় গত সোমবার উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, ১২৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৬টি বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া পরিবারগুলিকে সরকারিভাবে সহায়তা করা হয়েছে।

এদিকে উপজেলার ফান্দাউক, ভলাকুট ও সদর ইউনিয়নের তিনটি কমিনিউটি ক্লিনিক তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার অভিজিৎ রায় বলেন, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ১৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সাংসদ বি এম ফরহাদ হোসেন মেডিকেলের এসব টিমের উদ্বোধন করেছেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইকবাল মিয়া বলেন, ‘১২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টির চারপাশে ও ভেতরে পানি ঢুুকে পড়েছে। এতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কোনও আদেশ আসেনি। এলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলায় ১০ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে বোনা আমন ২৯০৫ হেক্টর আউশ চাষ করা হয়েছিল। সব জমিই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা এখন দিশাহারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাইদ তারেক জানান বোনা আমনের জমিগুলো বন্যার পনিতে তলিয়ে গেছে।

ধরমনডল ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমার ইউনিয়নের সব বোনা আমন তলিয়ে গেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কৃষি অফিসের কোন লোকের দেখা মেলেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোনাববর হোসেন বলেন আমরা বন্যার মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।

জেলা জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর বলেন, আমরা বন্যা মোকবেলায় প্রস্তুত আছি। আশা করি একটি মানুষ আমাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।