মিন্টু মিয়া, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ করেই বাড়ছে রোগীর চাপ। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে শুধু ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত কারণে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। প্রতিদিনই ১০-১২ জন রোগী হাসপাতাল ছাড়ছে। পুনরায় তদুপ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। উপজেলার ৫ লক্ষ মানুষের ৫০ শয্যা হাসপাতালেই এক মাত্র ভরসা।

মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬৯ জন রোগী, আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছে ৫৮৩ জন। পুরুষ ২৩০ জন, মহিলা ৩৫৩ জন। জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ১০৬ জন। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে পাঁচ বছরের নিচে ২৫ জন শিশু রয়েছে ৷ নভেম্বর মাস জুড়েই হঠাৎ করে ডায়রিয়ার পাশাপাশি শিশুদের সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপরের দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেডে ডায়েরিয়া ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বয়স্ক ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। প্রয়োজনের তুলনায় শয্যা না থাকায় অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে রোগীসহ তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনদের ভোগান্তি পোহাতে দেখা গেছে।

উপজেলার নান্দাইল ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের তাছলিমা আক্তার বলেন, ৪৫ দিনের বাচ্চাকে হাসপাতালে ৬ দিন যাবত ভর্তি। শ্বাস কষ্ট ও সর্দির কারনে ছেলেটির নিউমোনিয়া হয়ে গেছে। কষ্ট করে হলেও চিকিৎসা নিতে হবে।

শেরপুর ইউনিয়নের লংগারপাড় গ্রামের জহুরা খাতুন জানান, নাতিকে নিয়ে দুদিন যাবত হাসপাতালে আছি। ৪-৫ দিন ধরে নিউমোনিয়া। পুত্রবধু গার্মেন্টসে চাকুরী করে ১৮ মাস বয়সের নাতিকে নিয়ে ভোগান্তিতে আছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদুর রশিদ জানান, উপজেলায় ৫ লাখ মানুষের বসবাস স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ৫০ শয্যা হাসপাতাল টি খুবই অপ্রতুল্য। তবুও আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুসহ বয়স্করা ঠান্ডা জনিত রোগে ভুগছে।