নিজস্ব প্রতিবেদক : নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ থেকে মাইগ্রেশনের দাবি করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও তুলে ধরেন।

রোববার সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত মানবন্ধন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন প্রতিষ্টানটির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ থেকে মাইগ্রেশনের দাবিতে এ মানববন্ধন করে তারা।

এতে বক্তব্য রাখেন জাকারিয়া শুভ, তাহমিদ আল মুজাহিদ। আসিফ হাসান শুভ, আফরোজা বিথি, নুসরাত আনজুম নুহা, তাসনুভা মেহজাবিন ঐশি, ইমরান খান ইমন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তাদের বক্তব্যে তারা বলেন, ২০১৭-১৮ সেশনে জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে এই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে আসে। তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের জানান যে, কলেজের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার কারণে ২০১৬ সালে তাদের পূর্ববর্তী শিক্ষার্থীরা মাইগ্রেশন করে অন্যত্র চলে গিয়েছে। তারা এটাও বলেছিলেন আমাদেরকে প্রথম ব্যাচ ধরে কলেজের সকল কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু করবেন এবং তাদের পূর্ববর্তী সকল সমস্যারও সমাধান তারা করেছেন।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা জানায় ক্লাস শুরুর পর ১ম বর্ষ কোনো সমস্যা ছাড়া কাটলেও ২য় বর্ষে জানতে পারি, এই কলেজের বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন তো নেই-ই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশনও তখন ছিলনা। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলে উনারা বারবার আশ্বস্ত করেন যে, অতিদ্রুত উনারা বিএমডিসি ও ঢাকা ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করবেন। এই অবস্থায় আমরা ১ম প্রফেশনাল পরীক্ষার দুইদিন আগে ঢাকা ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রেশন এবং পরীক্ষার আগের রাতে ১০টার পর এডমিট কার্ড পাই।

তৃতীয় বর্ষ পর্যন্তপর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলেও ফরেনসিক ল্যাবে ইকুয়েপমেন্ট ছিলনা যার ফলে প্রয়োজনের বোতলে পানি নিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল এবং সামগ্রী গুলো ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

করোনাকালীন সময়ে অন্যান্য মেডিকেল কলেজগুলোতে অনলাইন ক্লাস হলেও আমাদের কলেজ কর্তৃপক্ষকে বারবার ক্লাসের কথা বলার পরও উনারা কোনো প্রকার সাড়া দেননি বলেও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।

তাদের অভিযোগ এমনকি প্রফেশনাল পরীক্ষার পরও তারা ৪র্থ বর্ষের কোনো ক্লাসের ব্যবস্থা করেননি। অনেক বলার পর কতৃপক্ষ কয়েক মাস পর একজন শিক্ষকের মাধ্যমে সপ্তাহে দুটি ক্লাসের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তখনও তিন বিষয়ের মধ্যে বাকি ২টি বিষয়ের ক্লাসের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে আগস্ট মাস থেকে তিনটি বিষয়ে একজন করে শিক্ষক দেয়া হয় যাদের মধ্যে একজন স্থায়ী এবং অন্য দুইজন গেষ্ট টিচার, যেখানে প্রতি বিষয়ের জন্য কমপক্ষে ২জন করে স্থায়ী অধ্যাপক থাকার কথা। এর মাঝেও বেতনঘটিত সমস্যার কারণে শিক্ষকরা ক্লাস নেয়া বন্ধ রাখেন। বেতন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আগের গেস্ট টিচাররা চলে যান এবং আবার নতুন গেস্ট টিচার দিয়ে ক্লাস এর ব্যবস্থা করা হয়।

লেকচার ক্লাস শুরুর কয়েকমাস অতিবাহিত হলেও টিউটোরিয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা না করায় টিউটোরিয়াল শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আমরা ১০ দিনের মত ক্লাস করা থেকে বিরত থাকি। এর প্রেক্ষিতে উনারা প্রতি বিষয়ে একজন করে টিউটোরিয়াল শিক্ষক নিয়োগ করেন যেখানে কমপক্ষে দুইজন করে শিক্ষক থাকার কথা।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে এটি একটি রোগীশূন্য হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম বর্ষ patient oriental হলেও পর্যাপ্ত রোগীর অভাবে ৩য় বর্ষে আমরা শুধুমাত্র theory based ward ক্লাস করেছি এবং ৪র্থ বর্ষে ধিৎফ ক্লাসের কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। বর্তমানে মেডিসিন ও সার্জারী ডিপার্টমেন্টে কোনো চিকিৎসক নেই। নেই কোনো এনেস্থেসিওলজিস্ট। ফলে কোনো ধরণের সার্জারীই সম্ভব নয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মেডিকেল কলেজ থেকে স্বাস্থ্যশিক্ষা সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়।

তারা বলেন, এসকল সমস্যা সমাধান করার জন্য কর্তৃপক্ষকে বারবার বলা হলেও উনারা কোনোরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। আর এসকল সমস্যা সমাধান ও বিএমডিসির দাবিতে ২১/৯/২১ ইং তারিখ থেকে আমরা সকল প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেই। এরপর অনেকদিন অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি।