ফজলুর রহমান, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) : শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত বগুড়ার নন্দীগ্রামে কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে ইরি-বোরো জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়ে যাওয়ায় নন্দীগ্রামের কৃষকেরা সোনালী ফসল ঘরে তোলা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। শুধু তাই নয় মাঝে মাঝে যে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে তাতে কৃষকের নিচু জমিতে পানি জমে ক্ষেতের ধান চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে শ্রমিক সংকট।

এ এলাকার কৃষকরা সব মৌসুমেই ধান লাগানো ও কাটা-মাড়াইয়ের জন্য উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। সেই শ্রমিকদের দেখা এখনও মিলছে না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৬৩২ মেট্রিক টন ধান।

উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের রিধইল গ্রামের কৃষক মুসা জানান, কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির কারণে জমির ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। এ ধানগুলো কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে ধানে চারা গজিয়ে গাছ বের হতে শুরু করেছে। এখন ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়া গেলে ধান জমিতেই নষ্ট হয়ে যাবে।

উপজেলার কাথম গ্রামের কৃষক ইয়াকুব হোসেন বলেন, আমি এবার ১০ বিঘা জমিতে ইরি ধানের চাষ করেছি। ঝড়-বৃষ্টির কারণে ধানের যে ক্ষতি হয়েছে এখন মাঠে ধান থাকায় তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরেও ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছি না। যে দু-একজন কৃষক শ্রমিক পাচ্ছে, ধান কাটার দাম দিতে হচ্ছে ৭-৮হাজার টাকা বিঘা।

ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বিজরুল গ্রামের কৃষক আজাদ হোসেন জানান, ধান পড়ে গিয়ে যে ক্ষতি হয়েছে এখন পানিতে থেকে তার চেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে ধানে চারা গজিয়ে গাছ বের হতে শুরু করেছে ধান কাটার মানুষ নাই। আমি বুঝতেই পারছি না কি করবো।

দোহার গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ৮হাজার টাকা বিঘা ধান কেটে নিয়েছি। প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ১৮ মন ৮শ টাকা দরে বিক্রি করে শ্রমিকের টাকা দিয়ে ধানের খরচ তুলতে পারিনি। প্রতি বিঘায় ৫ হাজার টাকা লোকশান কি করবো দিশাহারা হয়ে পড়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবুর সাথে কথা বললে তিনি এই প্রতিনিধিকে জানান, বোরো ধানের ক্ষতি নির্ধারণ করার জন্য মাঠে উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা ক্ষতির পরিমান নির্ধারণ করছে অল্প সময়ের মধ্যে তা জানা যাবে।