ফজলুর রহমান, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রামে শিক্ষিত বেকার যুবক জালাল উদ্দিন বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে গিয়ে পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য জানা গেছে, নন্দীগ্রাম পৌরসভার বেলঘড়িয়া গ্রামের জালাল উদ্দিন বগুড়া পন্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি ইনজিনিয়ারিং শেষ বর্ষের ছাত্র সে। জালাল লেখাপড়া শিখে যখন চাকরির আশায় দারে দারে ঘুরছিলো কোন মতেই তার ভাগ্যে চাকুরি জোটেনি যার কারণে সে আশা করছিলো বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে হয়তোবা ভাগ্যোর পরিবর্তন ঘটবে।

সেই স্বপ্ন নিয়ে সে ৫০ হাজার টাকা করোনা কালিন সময়ে ঋণ করে, এবং তার নিজ বাড়ীতে ৩টি হাউজ তৈরী করে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে শিং ও মাগুর মাছ চাষ শুরু করে। প্রথম অবস্থায় মাছ চাষ ভালোই হচ্ছিলো অতি উৎসাহের সহিত মাছ চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন তার চোখে মোখে ভেসে উঠছিল।

জালালের মনের আশা লেখাপড়ার পাশাপাশি মাছ চাষ করে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবে কিন্তু তা আর ভাগ্যে সইল না। হঠাৎ করে মাছ চাষে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় যার কারনে বন্ধ হয়ে যেতে বসে মাছ চাষ।

এ বিষয়ে জালালের সাথে কথা বললে তিনি এই প্রতিনিধিকে জানান, দুই/তিন বার মাছ বিক্রয় করে কিছু টাকা এসেছে কিন্তু এখন আর কোন মতেই মাছ চাষ করতে পারছি না। এখন পুজি হারিয়ে দিশেহাড়া হয়ে পড়েছি।

একদিকে ঋণের টাকার চাপ অপরদিকে ব্যবসা নাই সব মিলিয়ে চোখে সরিষাফুল দেখছি। বর্তমানে ছোট একটি মুদির দোকান দিয়ে কোন মতে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন কাটছে। সরকার যদি আমাকে বড় ধরনের ঋণ প্রদান করে তাহলেই আমি ঋণের বোঝা থেকে উঠে আবার মাছ চাষ করতে পারব এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: ফেরদৌস আলী‘র সাথে কথা বললে তিনি জানান, জালালের মাছ চাষ করার সময়ে নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে তার যদি পুঁজি দরকার হয় তাহলে অবশ্যই তার জন্য ব্যাবস্থা করা হবে।