ফজলুর রহমান, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) : অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব এমনই অবস্থা ছিল বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। তবে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ডাক্তার ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহযোগীতায় বদলে যাচ্ছে হাসপাতালের চিত্র। সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশার আলো।

সোমবার (০৩ জানুয়ারি) দুপুরে ২০ শয্যা হাসপাতাল চত্বরে স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিফা নুসরাত, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম, মেয়র আনিছুর রহমান, ওসি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল চন্দ্র মহন্ত, শ্রাবণী আকতার বানু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. তোফাজ্জল হোসেন, কৃষি অফিসার আদনান বাবু, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আবু তাহের, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন প্রমূখ।

পৌর শহরের ২০ শয্যা হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষে নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ সরঞ্জামদি প্রদান করেন। পাশাপশি হাসপাতাল চত্বরে মসজিদ নির্মাণ করার জন্য ৯০ হাজার টাকা দেন।

জানা গেছে, স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০১-২০০২ অর্থ-বছরে পৌর শহরে ২০ শর্য্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে (নির্মাণ ও রক্ষাবেক্ষন ইউনিট-সিএমএমইউ) হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণ সহ আনুসাঙ্গিক খাতে ব্যায় হয় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

২০০২ সালে হাসপাতালটির ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন এবং নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ২০০৫ সালে এর অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও জনবল নিয়োগ না দেয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আটকে যায়। জনবল নিয়োগ ছাড়াই ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহুর্তে তড়িঘরি করে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক সাংসদ ডা: জিয়াউল হক মোল্লা।

এরপর দীর্ঘ ১৫ বছরেও জনবলের অভাবে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি। ফলে হাসপাতালের বিশাল ক্যাম্পাস জুড়ে ঘাস ও বিভিন্ন গাছ-জঙ্গল গজায়। যার ফলে আবাসিক ভবনগুলো নষ্ঠ হচ্ছিল। ব্যবহার না করায় হাসপাতালের বিছানা ও আসবাবপত্রে ধুলাবালির আস্তরণ জমে যায়। ঘুনপোঁকা ভবনের দরজা-জানালায় বাসা বাঁধায় খুলে পড়ছে দরজা জানালার কপাট। ঠিকমতো নজরদারি না থাকায় হাসপাতালটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। তবে বর্হিবিভাগ চালু থাকলেও তা চলছিল মন্তর গতিতে।

এমন সময় নন্দীগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী আনিছুর রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নির্বাচিত হলে ২০ শয্যা হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্নসহ নিয়মিত রোগী দেখার ব্যবস্থা করা হবে। মেয়র নির্বাচিত হয়ে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করছেন তিনি।

হাসপাতালের ভেতরে এবং বাইরে চেহারায় যেন পাল্টে গেছে। অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে হয়েছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও ঝকঝকে। এখন সেখানে নিয়মিত বর্হি:বিভাগে রোগী দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল বলেন, পৌর সদরের ২০ শয্যা হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ সবাইকে নিয়ে মত বিনিময় সভা করা হচ্ছে। বর্তমানে বর্হি:বিভাগ চালু রয়েছে। আশা করছি সবার সহযোগীতায় আউটডোরও চালু হবে।