মোঃ ফজলুর রহমান, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার পৌর শহর ও বিভিন্ন গ্রামে সাধারণ মানুষ দাদন ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে ঘর ছাড়া হয়ে পড়েছে। তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে পাড়ি জমিয়েছে।

জানা গেছে, গ্রামের মানুষ অভাবে পড়ে বিভিন্ন এনজিওর নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করে তাদের সংসার পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু এর মধ্যে গত বোরো মৌসুমে কৃষকদের জমির ধান নষ্ট হওয়ার কারণে তারা অভাবে পড়ে গেছে। অন্য দিকে প্রতি মাসে বা সপ্তাহে এনজিওগুলোতে কিস্তি দিতে হচ্ছে, সব মিলিয়ে তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এমন অবস্থায় গ্রামের অসাধু দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে টাকার জন্যে ধর্ণা দিচ্ছে। সুযোগ বুঝে সুদখোর দাদন ব্যবসায়ীরা কথা দিয়ে ভুলিয়ে ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে ব্যাংকের ফাঁকা চেক, জমির দলিল, মাঠ রেকর্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র, সোনার গোহনা, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন রকমের জিনিস রেখে টাকা দেয়। এমনকি ফাঁকা চেক নিয়ে তাদের ইচ্ছামত টাকার অংক বসিয়ে দিয়ে ব্যাংকে চেক ডিজঅনার করে কোর্টে মামলা করে।

প্রতিমাসে শতকরা ৪০ থেকে ৫০ টাকা লাভ নেয়। টাকা নেওয়ার পর থেকে শুরু হয় সুদের টাকা নেওয়া। সুদের টাকা দিতে দিতে মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেঅনেকে।  কেউ উধাও হয়ে গেছে। তারপরেও দাদন ব্যবসায়ীরা তাদের বিরুদ্ধে কোর্টে বা থানায় মামলা করে তাদের সর্বশান্ত করছে।

অপর দিকে পৌর শহরের দাদন ব্যবসায়ীরা ৩/৪ তালা বিল্ডিং করে ভাড়া দিচ্ছে এবং লক্ষ লক্ষ টাকার পাহাড় গড়ছে। গ্রামের সুদখোর মোটরসাইকেল নিয়ে সুদের টাকা আদায় করে থাকে। যদি কোন ব্যাক্তি টাকা দিতে না পারে তা হলে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি সহ মারপিট পর্যন্ত করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বেশির ভাগ সুদখোর অত্যান্ত প্রভাবশালী। অনেক মানুষ সুদের টাকা নিয়ে বাড়ীঘর পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে হয়েছে। নন্দীগ্রাম পৌর শহর ও বিভিন্ন গ্রামে এ রকম শতাধিক সুদখোর রয়েছে। যারা অত্যাচার করে যাচ্ছে। এলাকাবাসি প্রশ্ন তুলেছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ওই সকল সুদখোরদের তালিকা তৈরী করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি তুলেছে।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন এই প্রতিনিধিকে জানান, দাদন ব্যবসা এইটা একটি সামাজিক ব্যাধি। সকলে মিলে গণসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে, যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।