ছবি: প্রতিনিধি

মোঃ ফজলুর রহমান, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) : বগুড়া জেলার শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত নন্দীগ্রাম উপজেলায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে এবার ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। চারদিকে এখন সবুজের সমারোহ। পোকামাকড় ছাড়াই বেড়ে ওঠা সোনালি ধানের শীষে ভরে গেছে মাঠ। দিগন্ত জোড়া সবুজ ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বিকশিত করে তুলেছে।

মাঠ ভরা ফসল দেখে কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের ছোঁয়া।

যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে তাহলে এবার আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন এই উপজেলার কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চলতি রোপা আমন মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় সর্বমোট ২০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা অর্জিত হয়েছে ১৯ হাজার ৭৬০ হেক্টর।

আমন মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি না হলেও পরবর্তীতে বৃষ্টি হওয়ায় মাঠের ফলন দেখে হতাশ কৃষকেরা অনেকটা আশান্বিত। ইতিমধ্যেই জমির ধান গামর হয়ে ধানের শীষ বের হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ধানের খোল পঁচা রোগ দেখা দিলেও বৃষ্টি হবার পর সেটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরও সতর্কতার সাথে জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করছে কৃষকরা।

উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের সিধইল গ্রামের কৃষক বাবু মেম্বার, সাজু আহমেদ, শাজাহান আলী, দোহার গ্রামের তোতা মিয়া, জিয়াউর রহমান, রিধইল গ্রামের জয়নাল, মাসুদ, বাসেদ, আব্দুল মান্নান, আবু মুসা সহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই এবার আমন ধানে পোকা-মাকড়ের আক্রমন খুব কম। আবহাওয়া ভাল থাকায় সময় মত বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে সিংড়া খালাস গ্রামের কৃষক আরিফুল ইসলাম মজনুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বুক ভরা আশা নিয়ে দিনভর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি, যদিও এবার পোকামাকড়ের আক্রমন কম, আমন ধান গত বছরের চেয়ে এবার ভাল হয়েছে। তবে আশা করা যাচ্ছে যদি কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না আসে তবে এবার আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই অঞ্চলের কৃষকরা বিপুল পরিমাণ ফসল উৎপাদন করে অত্র অঞ্চলের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করেও ৭০/৭৫ ভাগ ধান দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে থাকে।

১নং বুড়ইল ইউনিয়নের ব্লকের দ্বায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি প্রতিদিন মাঠে যাচ্ছি এবং আমার কৃষক ভাইদের কীটনাশক প্রয়োগ সহ সকল ধরনের পরামর্শ প্রদান করে আসছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার আদনান বাবু বলেন, আমন ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষক ভাইদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করে আসছি। এবং কৃষকরা নিয়মিত কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং আমাদের পরামর্শমত ধান চাষ করেছে।

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূলে থাকলেও রোগ-বালাই পোকামাকড় তেমন একটা নেই। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে এতে কৃষকরা অনেকটা লাভবান হবে।