নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (রিপ্রেজেন্টেটিভ) দ্বারা বৈশাখী টেলিভিশনের নওগাঁ সংবাদদাতা এবাদুল হক এবং বণিক বার্তার নওগাঁ প্রতিনিধি আরমান হোসেন রুমন লাঞ্ছিতের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে সাড়ে ১১টায় হাসপাতাল চত্বরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর উদ্যোগে এ কর্মসূচী পালিত হয়।

এ সময় বিএমএসএফ ও সুজনের সভাপতি সাংবাদিক মোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে বিএমএসএফ ও সুজনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মাহমুদুন নবী বেলাল, বিএমএসএফ এর সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক একে সাজু ও আব্বাস আলী এবং জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আশরাফুল নয়ন, দৈনিক নবচেতনার নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি মোয়াজ্জেম হোসেন বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ ও সচেতন সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরদের ব্যবস্থাপত্রে নিজেদের কোম্পানির ঔষধ লেখা আছে কিনা তা দেখার জন্য টানাটানি ও হুমড়ি খেয়ে পড়েন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। তাদের অনেকেই মুঠোফোন দিয়ে ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলে রাখেন। এতে রোগীদের অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এমনকি হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডাক্তারদের কক্ষে তাদের অবস্থান করতেও দেখা যায়। সেই চিত্র ধারন করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়। হাসপাতালে রিপ্রেজেন্টিভ কর্তৃক সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুক্তার হোসেন এর সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিয়ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ডা. মুক্তার হোসেন বলেন, সচেতনতামূলক বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ ও দেওয়ালে সাটানো আছে। হাসপাতালে রিপ্রেজেন্টেটিভদের কারণে রোগীদের প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। হাসপাতাল চত্বরে তাদের মোটরসাইকেল রাখাতে সমস্যা হয়। দুপুর ১টার পর সপ্তাহে দু’দিন ডাক্তার ভিজিট করার নিয়ম থাকলেও তারা মানছেন না। সাংবাদিকদের তিনি লিখিত স্মারকলিপি দিতে বলেন। এর প্রেক্ষিতে যা করণীয় তা করা হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রিপ্রেজেন্টেটিভ-চিকিৎসক সম্পর্কের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের রোষানলে পড়েন বৈশাখী টেলিভিশনের নওগাঁ সংবাদদাতা এবাদুল হক এবং বণিক বার্তার নওগাঁ প্রতিনিধি আরমান হোসেন রুমন। প্রতিদিন সদর হাসপাতাল থেকে প্রায় ১২০০-১৫০০ হতদরিদ্ররা চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে।