এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁর মান্দার সতিহাট কে টি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কক্ষে মাদক সেবন করতে বাঁধা দেয়ায় শিক্ষক ও অফিস সহায়ককে মারপিট করেছে ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ বহিরাগতরা। এবিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান মণ্ডল বাদি হয়ে তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিষ্ঠানে জিলাপি তৈরি করার সময় রাত ১০ টার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের এনামুল হকের ছেলে সুইট হোসেন (৩০), মামুন হোসেনের ছেলে মিঠু (২৮) ও খাতামুল ইসলামের ভাগিনা রিমন (২৯) (প্রাক্তন ছাত্র) মাদক সেবনের জন্য একটি কক্ষ খুলে দিতে চাপ দেয়। কক্ষ খুলে দিতে না চাইলে তারা হুমকি প্রদান করে চলে যায়।

এঘটনার জের ধরে পরের দিন রোববার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০ টার দিকে গাছের ডাল দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহায়ক সাইফুল ইসলাম (৩০) কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার এক পর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে এবং এলোপাথাড়িভাবে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোলাজখম করে।

অফিস সহায়ককে বাঁচানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক (মৌলভী) মিজানুর রহমান এগিয়ে গেলে তাকেও শারীরিক ভাবে হেনস্তা করে। এরপর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ঘটনাস্থলে গেলে তাকে মারপিট করার জন্য উদ্ধত হলে প্রাণ ভয়ে তিনি দৌড়ে অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তারা অধ্যক্ষকে নানাভাবে গালিগালাজ করে ও প্রাণনাশের হুমকিধামকি দিয়ে বীরদর্পে চলে যায়।

এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার আগের দিন রাতে প্রতিষ্ঠানে দোয়া মাহফিল উপলক্ষে জিলাপি তৈরির জন্য আমরা কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ প্রতিষ্ঠানে ছিলাম। এসময় অভিযুক্তরা মাদকদ্রব্য সেবনের জন্য আসলে তাদের আমি বাঁধা দেয়। একাণে পরদিন দিন সকালে তারা অতর্কিত ভাবে প্রতিষ্ঠানে এসে আমাকে আক্রমণ করে মারপিট করে। এসময় আমার সহকর্মীরা আমাকে রক্ষা করে।

এবিষয়ে সহকারী শিক্ষক (মৌলভী) মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারীকে মারপিট করার সময় আমি তাকে রক্ষা করতে গেলে তারা আমাকেও শারীরিক ভাবে হেনস্তা ও লাঞ্চিত করে।

এব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান মণ্ডল বলেন, আমার প্রাক্তন ছাত্রসহ বহিরাগতরা আমার প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের মারপিট করার সময় আমি এগিয়ে গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারতে উদ্ধত হলে প্রাণ ভয়ে দৌড়ে আমি অফিস কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিই। তখন তারা বাহিরে থেকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এরপর আমি আমার সহকর্মীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করে সকলের পরামর্শ ক্রমে থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করি।

এব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মন্ডল বলেন, শিক্ষক ও কর্মচারীকে হেনস্তা ও মারপিটে ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে থানায় অভিযোগে করার কথা বলেছি।এ ধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনা মেনে নেওয়া যায়না।

মান্দা থানার পরিদর্শক শাহিনুর রহমান শাহিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান মণ্ডল বাদি হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে মামলা নথিভূক্ত করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। তবে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানান ওসি।