এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁ সদর, মান্দা, নিয়ামতপুরসহ পোরশা উপজেলার কৃষকরা যখন বৃষ্টির অভাবে আমন ধান নিয়ে দারুণ দুঃচিন্তা ও শঙ্কার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছিলেন, ঠিক তখনই গত রোববার থেকে টানা ভারী বর্ষনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ এলাকার জনজীবন।

রোববার দুপুর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত টানা বর্ষনে পুকুর, খাড়ি, নালা,বিল, জলাশয় ও নদী পানিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। অনেক রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ফলে পথে চলাচল দারুণভাবে ব্যহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তেমন কেউ ঘর বের হচ্ছেন না। ভাদ্র মাসের শেষে এসে এমন হঠাৎ টানা বর্ষনে কোন কাজ না পেয়ে খেটে খাওয়া মানুষ গুলোও নিজ নিজ বাড়িতে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন।

জেলার পাঁচ শতাধিক পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ফলে মাছ চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পানিতে নিচু এলাকার আমন ধান সহ অন্যান্য ফসলাদি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এ ছাড়াও অনেকের বাড়িঘর ভেঙ্গেগেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। পানি দ্রুত নেমে না গেলে ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ কৃষকগণ।

মান্দা উপজেলার বাঁকাপুর গ্রামের কৃষক কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম জানান, টানা বর্ষণে বাঁকাপুর, বিল উৎরাইল, মান্দা বিল, বাথইল, চকরাজাপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকার বিল ও মাঠের আমন ফসলের আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার পুকুরগুলো উপচে ও পাড় ভেঙে মাছ ভেসে গেছে।

নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা, ছাতড়া, পরানপুর, দারাজপুর, শ্রীমন্তপুর এলাকার কৃষক মকলেছুর রহমান, আল আমিন, আলতাফ হোসেন, নিজাম উদ্দিন জানান, টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে বিলের আমন ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া পুকুরের মাছ পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে চলে গেছে।

পোরশা উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষনে গবিরাকুড়ি এলাকার নিচু এলাকার বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে। ব্যাপক বর্ষণের কারণে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে ফলে মানুষ চলাচল করতে পারছেন না। যে সব পরিবারের বাড়ি ভেঙ্গে গেছে তারা স্থানীয় আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

ছাওড় ইউনিয়নের খাড়ি পাহাড় গ্রামের আব্বাস আলী জানান, প্রবল বর্ষণে তাদের গ্রামের ছয় পরিবারের বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে। তারা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ঘাটনগর ইউনিয়নের নিস্কিনপুর গ্রামের পোল্ট্রি খামারী শরিফুল ইসলাম জানান, তার খামারে ১ হাজার ২০০টি মুরগী ছিল হঠাৎ বৃষ্টিতে তার সব মুরগী ভেসে গেছে। এতে তার প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

একই গ্রামের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আকবর আলীর প্রায় ২০০মুরগী ভেসে গেছে বলে তিনি জানান। অপরদিকে সুহাতি গ্রামের মাছ চাষি মজিবর রহমান মাস্টার জানান, তার পুকুরের বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় দুই লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার জানান, এই বর্ষনে উপজেলার ৩২ হেক্টর জমির আমন ধান ও ৫ হেক্টর জমির সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হবেনা। পানি স্থায়ী হলে ক্ষতি হবে বলে তিনি জানান। তবে পানি নিস্কাশনের পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠে কাজ করছেন বলে জানান।

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জাকির হোসেন জানান, ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা তৈরীর জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পেলেই জেলা প্রশাসকের নিকট পাঠানো হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্থরা সহযোগীতা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন।