এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁর মহাদেবপুরে এবার প্রেমিকার অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিককে না পেয়ে প্রেমিকের বাবা-মাকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কদমতলী এলাকা থেকে ৯ দিন পর মোবাইলে এসএমএস পেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রেমিকাকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় কথিত প্রেমিক মাহমুদুল হাসান রকি (২৬) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তার মা-বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে মহাদেবপুরের কদমতলী এলাকায়।

আটকৃতরা হলেন, গাংজোয়ার গ্রামের মোজাম্মেল হক (৫৫) ও তার স্ত্রী তাছলিমা বেগম (৫০)।

তবে গুজ্ঞরণ রয়েছে কথিত প্রেমিক রকির সাথে ওই ছাত্রীর পূর্ব থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সুত্রে প্রেমিকাকে বিয়ের আশ্বাসে বাড়ি নিয়ে গিয়ে শারিরিক সম্পর্কে গড়ায়। পরে বিয়ে না করে গড়িমসি শুরু করলে অপহরণ ও ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে রকির পরিবার।

তবে প্রেস বিফিংয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানায়, ৩ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই তরুণী (১৫) মেস থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হলে মহাদেবপুর থানার কদমতলী এলাকা থেকে আসামি রকি তাকে ফুসলিয়ে জোর করে অপরহণ করে বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর ৯ দিন আসামির বাড়িতে ওই তরুণীকে আটক রেখে ধর্ষণ করে ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।

এর মধ্যে ভিকটিম সুযোগ বুঝে আসামির মোবাইল থেকে এসএমএসের মাধ্যমে নওগাঁর পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়াকে জানান যে আসামি মাহমুদুল হাসান রকি তাকে জোর করে অপহরণ করে নিজ বাড়ি গাংজোয়ার আটকে রেখেছে এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপারের নির্দেশে ভিকটিমকে উদ্ধার ও অপহরণকারীর মা-বাবাকে গ্রেফতার করা হয়।

মহাদেবপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে থানায় নিয়ে আসে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছিল।