আব্দুল মজিদ মল্লিক, আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁ শহরের সুলতানপুর মহল্লার সন্তোষ চন্দ্র সুত্রধরের ছেলে পরিতোষ চন্দ্র সুত্রধর। পরি নামেই ডাকেন সবাই। আশির দশকে এই পরিই প্রতিদিন বগুড়া থেকে প্রকাশিত পত্রিকা এনে পৌঁছে দিতেন নওগাঁর এজেন্টসহ পাঠকদের হাতে। সে সময় নওগাঁয় ছিলেন হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন সাংবাদিক।

বিশেষ করে বগুড়া থেকে প্রকাশিত কাগজে যারা কাজ করতেন পরিই ছিলেন তাদের একমাত্র ভরসা। করতোয়ার বিশ্বনাথ দাস, উত্তরবার্তার কায়কোবাদ খান, সাদেকুল ইসলাম, মুক্তবার্তার এবিএম রফিকুল ইসলামসহ অন্য সাংবাদিকরা সারাদিনের সংবাদ সংগ্রহ করে নিউজ প্রিন্ট কাগজে লিখে খামবন্দি করে অপেক্ষা করতেন পরির। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তাদের কাছে উপস্থিত হতেন পরি।

নিউজের খাম, দুই-একটি সাদা-কালো ছবি আর বিজ্ঞাপন নিয়ে রাতেই বাসযোগে বগুড়ায় ছুটতেন তিনি। সেখানে পৌঁছে প্রতিটি অফিস ঘুরে নিউজ বিলি করা ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। রাতে সেখানে অবস্থান করে পরদিন কাঁকডাকা ভোরে পত্রিকার বান্ডিল নিয়ে বাসযোগে নওগাঁয় এসে তা তুলে দিতেন পত্রিকা এজেন্টদের হাতে। নিজেও বিলি করতেন।

স্থানীয়রা জানান, তখন পরির বয়স ছিল মাত্র ১০-১১ বছর। ১৯৮৩ সাল থেকে প্রায় একযুগ পরি এ পেশায় জড়িত ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শেষ পর্যন্ত পেশায় টিকতে পারেননি তিনি। উন্নত প্রযুক্তি আর প্রতিযোগিতার বাজারে হারিয়ে গেছেন পরি। একদিন নওগাঁর মানুষের হাতে প্রতিদিনের পত্রিকা যে ব্যক্তি তুলে দিতেন ও অন্যদের খবর জানান দিতেন, তার খোঁজ এখন আর কেউ রাখেন না।

কথা হয় পরিতোষ চন্দ্র সুত্রধর ওরফে পরির সঙ্গে। তার বয়স এখন ৪৬ বছর। পোড় খাওয়া চেহারায় বয়স আর অভাব-অনটনের ছাপ। পত্রিকা সংশ্লিষ্ট অনেকেই এখন প্রতিষ্ঠিত, তবে পরির জীবন-জীবিকা এখনও অনিশ্চিত।

পরি বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও স্কুল পড়ুয়া এক মেয়ের মুখে আহার যোগাতে কখনও ফুটপাতে পেয়ারা বিক্রি, কখনও রাজমিস্ত্রির যোগারি অর্থাৎ কায়িক পরিশ্রম করেই চলে জীবন। অর্ধাহার-অনাহারের জীবনে ধীরে ধীরে অচল হচ্ছে শরীর।

তবে পরী কোনও দয়া চান না। বয়স অনুযায়ী একটি কাজ পেলে খেয়ে-পরে সবাইকে নিয়ে আরও কিছুদিন ভালোভাবে বাঁচতে চান তিনি।