এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁ শহরের ইসলামপুর রোডে মিষ্টিপট্টি এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা মানুষ দল বেঁধে মিষ্টি খেতে যায়। ইসলামপুর রোডের ধারের দোকানগুলো সকাল থেকে মিষ্টি তৈরি শুরু করে। শুকনা মিষ্টি সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) বিকেলে চট্টগ্রামের মানবাধিকার কর্মি তোফায়েল আহম্মেদ তুফান অতিথিকে নিয়ে গিয়েছিলেন নওগাঁ মিষ্টান্ন ভান্ডার দোকানে। অভ্যাসবশত মিষ্টি কেনার পূর্বে ৩টি মিষ্টি খেয়ে ৩০ টাকা দেন। দোকানের কর্মচারী আরো ১৫ টাকা দাবি করেন। বলেন, ‘ভাই, ১ মে থেকে মিষ্টির দাম পিচ প্রতি পাঁচ টাকা করে বেড়ে গেছে।’

তুফান চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলেন, ‘একটা মিষ্টিতে পাঁচ টাকা!’ কর্মচারী বলেন, ‘হ্যাঁ, ১৮০ টাকার মিষ্টি এখন কেজি ২২০ টাকা।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নওগাঁর সব দোকানেই মিষ্টির দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা হারে বেড়েছে। অন্যান্য মিষ্টির দামও একই হারে বেড়েছে। চিনিসহ মিষ্টি তৈরির অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে মিষ্টির দামের ওপর।

নওগাঁ শহরের দোকানগুলোতে হরেক রকমের মিষ্টি বিক্রি হয়। সুকনা একটি সাধারণ মিষ্টি। এটির কেজি ছিল ১৮০ টাকা। এখন এই মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি দরে। নওগাঁ শহরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান নওগাঁ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে এই দরে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টি। তারা বলছে, ১ মে থেকে তারা মিষ্টির দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে মিষ্টির দাম বাড়ার প্রভাব মিষ্টির বাজারে পড়েনি বলে জানালেন নওগাঁয় কর্মরত মানবাধিকার কর্মি তোফায়েল আহম্মেদ তুফান।

তিনি বললেন, শুক্রবার বিকালেও নওগাঁ মিষ্টান্ন ভান্ডারে লাইন ধরে মানুষ মিষ্টি কিনেছেন। অবস্থা দেখে বোঝাই যাচ্ছে না যে মিষ্টির দাম বেড়েছে।

নওগাঁ শহরে ব্রীজের মোড়ে একটি বড় মিষ্টির দোকান হক মিষ্টান্ন ভান্ডার। মিষ্টির দর নিয়ে কথা হয় স্বত্বাধিকারী নাজমুল হকের সঙ্গে।

তিনি বলেন, মিষ্টি তৈরির সব উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। ৫০ কেজির ১ বস্তা চিনির দাম কঠোর বিধিনিষেধের আগে ৩ হাজার টাকা ছিল। এখন সেই চিনির দাম ৪ হাজার টাকা। ৪৫ কেজির ৪টি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম আগে ছিল ১৬ হাজার টাকা। এখন সেই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২০ হাজার টাকায়। ছানা, আটা ও তেলের দামও একইভাবে বেড়েছে।

নাজমুল হক বলেন, মিষ্টির মানটা ঠিক রাখতে চান। এ জন্য দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

নাজমুল আরো বলেন, তাদের সুকনা মিষ্টি সবচেয়ে ভালো মিষ্টি। এটি তারা ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি করতেন, এখন ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। সাদা মিষ্টি ২২০ টাকা ছিল, এখন ২৬০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। সন্দেশ ৩৬০ টাকা ছিল, এখন ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন।

শহর এলাকার পুরাতন মিষ্টির দোকান আল-আমীন অপেক্ষাকৃত কম দামে মিষ্টি বিক্রি করে থাকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারাও মিষ্টির দাম বাড়িয়েছে। তবে তারা সুকনা মিষ্টি ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করত। এখন তারা কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়ে ২২০ টাকায় বিক্রি করছে।

শহরের পিরোজপুর মহল্লার বাসিন্দা সজল মিষ্টি কিনতে এসেছেন ব্রীজের মোড় হক মিষ্টান্ন ভান্ডারে। তিনি বলেন, সবকিছুর মূলে চিনির দর। এটি সরাসরি মিষ্টির দামের ওপরে প্রভাব ফেলছে।

তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘এখন আমাদের মিষ্টি খাওয়া কিছুটা কমিয়ে দিতে হবে। তা ছাড়া আর কিছু তো করার নেই।’