ধূমকেতু ‘২৯-পি’-কে এমনই উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখা গিয়েছে সেপ্টেম্বরের শেষাশেষি। ছবি: নাসা      

খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : যেন হঠাৎই ঘুম ভেঙে জেগে উঠেছে আগ্নেয়গিরি! গলগল করে বেরিয়ে আসছে লাভা। আর তাতেই আলোকিত হয়ে উঠছে চার পাশ।

প্রায় সে ভাবেই হঠাৎ অসম্ভব উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখা গেল একটি ধূমকেতুকে। এমন ধূমকেতুর হদিশ মিলল এই প্রথম।

এখনও পর্যন্ত আমাদের চোখে ধরা দিয়েছে যে বৃহত্তম ধূমকেতুগুলি, রহস্যে মোড়া এই ধূমকেতুটি তাদের অন্যতম। আকারে প্রায় সেই ‘হেল-বপ’ ধূমকেতুর মতো সুবিশাল। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে যে হেল-বপ ধূমকেতুকে খুব উজ্জ্বল ভাবে দেখা গিয়েছিল পৃথিবীর আকাশে।

১৯২৭ সালে আবিষ্কৃত হলেও এই ধূমকেতুটিকে এর আগে হঠাৎ এতটা উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখা যায়নি। ধূমকেতুটির নাম ‘কামেট ২৯-পি’। ধূমকেতুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে অনেক অনেক দূরের কক্ষপথে। শনি ও বৃহস্পতির মাঝামাঝি জায়গা থেকে।

ব্রিটিশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ‘অ্যাস্টারয়েডস অ্যান্ড রিমোট প্ল্যানেট্‌স’ বিভাগের প্রধান রিচার্ড মাইল্‌স জানিয়‌েছেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর আকাশে ‘অরিগা’ নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে নজর রেখে টেলিস্কোপে ধরা পড়ে এই ধূমকেতুটির উজ্জ্বলতা হঠাৎই অসম্ভব বেড়ে গিয়েছে। তার কিছু দিন পরেই তা কিছুটা কমতেও দেখা যায়। পরে আবার খুব উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ধূমকেতুটি।

দু’দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ধূমকেতুটিকে অন্তত ৫ বার খুব উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখা গিয়েছে। মনে হচ্ছে সেই ধূমকেতু তার ভিতর থেকে অত্যন্ত উত্তপ্ত বহু পাথরখণ্ড মহাকাশে ছুড়ে দিচ্ছে। আগ্নেয়গিরি থেকে যে ভাবে বেরিয়ে আসে লাভা। যেন একের পর এক বিস্ফোরণ হচ্ছে ধূমকেতুতে। দু’দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ধূমকেতুটির উজ্জ্বলতা স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫০ গুণ বেড়ে যায়।

আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জন নুনান বলেছেন, ‘‘এত বড় বিস্ফোরণের ঘটনা এর আগে আর হয়নি এই ধূমকেতুতে। এর আগে এতটা উজ্জ্বল হয়েও উঠতে দেখা যায়নি ধূমকেতুটিকে। গত ২৪ অক্টোবর আবার বড় বিস্ফোরণ হয়েছে ধূমকেতুটিতে। এই ধূমকেতু কী কী পদার্থ উগরে দিচ্ছে, তা জানার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে হাবল টেলিস্কোপও। যা ধূমকেতু থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসা ১০০ মিটার আকারের বস্তুগুলিকেও দেখতে পারবে। এই পাথরখণ্ডগুলি থেকে পরে বৃহস্পতির মুলুকে কিছু নতুন ধূমকেতুও তৈরি হতে পারে।’’

কিন্তু ধূমকেতুটির উজ্জ্বলতা হঠাৎ এত বেড়ে গেল কেন, আর সেই ঘটনা কেন পর্যায়ক্রমে ঘটেই চলেছে, সেই রহস্যের জট এখনও খুলতে পারেননি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাঁদের ধারণা, হয়তো এই ধূমকেতুর অভ্যন্তরে কোনও পরিবর্তন ঘটছে।