বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার আদমদীঘি ও ধুনট উপজেলায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ সরকারী চাল জব্দ করেছে প্রশাসন। এসময় ট্রাক চালককে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে আদমদিঘিতে এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির প্রায় পৌনে ১১ টন চাল জব্দ করা হয়েছে।

গুদাম মালিক হলেন উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের পূর্ব ডালম্বা গ্রামের একরাম আলীর ছেলে ব্যবসায়ী আল মামুন (৪৫)। বুধবার বিকেল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্রাবনী রায় উল্লেখিত পরিমান চাল জব্দ ও উদ্ধার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার নশরতপুর বাজার এলাকায় জনৈক ইসমাইল হোসেনের চালকলের গুদাম ভাড়া নিয়ে ব্যবসায়ী আল মামুন চালের ব্যবসা করে আসছিলেন। তার বৈধ ব্যাবসার পাশাপাশি সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মস‚চির আওতায় ১০ টাকা কেজির চালগুলোও কিনে গুদামজাত করতেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্রাবনী রায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ওই গুদামে অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় ওই গুদামের ভিতর মজুদ করা খাদ্য অধিদপ্তরের ছাপানো ২১৪টি চটের বস্তায় থাকা ১০ হাজার ৭শ কেজি চাল ঢেলে প্লাস্টিক বস্তায় রিপ্যাক করা হচ্ছিল। ইউএনও’র উপস্থিতি টের পেয়ে গুদাম মালিক ও কর্মচারিরা পালিয়ে যায়। ওই দিন রাতেই উল্লেখিত পরিমান চালগুলো জব্দ করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্রাবনী রায় জানান, অবৈধ ভাবে চাল মজুদকারির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলা করতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কেএম গোলাম রাব্বানী বলেন, জব্দ করা চালগুলো থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছেন। অভিযুক্ত ও জড়িতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

অপরদিকে ধুনট উপজেলায় সরকারি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় দুস্থদের ভিডিজির চাল কালোবাজারে বিক্রির সময় ৬৫ বস্তা চাল সহ শাহ আলম (৩৫) নামে এক ট্রাক চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোর ৫টার দিকে সরকারি জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে ধুনট উপজেলার কান্তনগর বাজার এলাকা থেকে ট্রাক ভর্তি চালসহ ওই চালককে আটক করে প্রশাসন।

আটককৃত ট্রাকচালক শাহ আলম সিরাজগন্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার পারুলকান্দি গ্রামের বিষা প্রমানিকের ছেলে।

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে আটককৃত ট্রাক চালক সহ কালেরপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান হারেজ উদ্দিন আকন্দের ছোট ভাই ডিলার আমিনুল ইসলাম ঠান্ডু সহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে ধুনট থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। ডিলার আমিনুল ইসলাম ঠান্ডু ঈশ্বরঘাট গ্রামের জালাল উদ্দিন আকন্দের ছেলে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের কান্তনগর বাজারে সরকারি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় দুস্থদের মাঝে ভিডিজির চাল বিতরণ করার কথা ছিল।

কিন্তু সেই চাল দুস্থদের মাঝে বিতরণ না করেই কালেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার আমিনুল ইসলাম ঠান্ডু তার লোকজনকে দিয়ে বুধবার ভোর ৪টার দিকে কান্তনগর বাজার থেকে ট্রাকে লোড করে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল।

এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে সরকারি জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে প্রশাসনকে অবহিত করে। ধুনট থানা পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে সরকারি চাল ভর্তি ট্রাক সহ চালককে আটক করলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।

ধুনট থানার এসআই আসাদুজ্জামান জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রি করে আসছিল। সংবাদ পেয়ে ৩ হাজার ১৯০ কেজি চাল সহ ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এঘটনায় আটককৃত ট্রাক চালকের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি অনুযায়ি এই সিন্ডিকেটে জড়িত ৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।