আবুল কালাম আজাদ, বগুড়ারাকিবুল ইসলাম, ধুনট থেকে : বগুড়ার ধুনটে ৩ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হলেও চলতি মৌসুমে চাষ হয়েছে ৩ হাজার ২শ হেক্টর জমি যা লক্ষ্যমাত্রার কম।

উপজেলা জুড়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে হিমেল হাওয়ায় দুলছে হলুদের ঢেউ। সরিষার এই ফলনে কৃষকের চোখেমুখে আনন্দের আভা। ভালো ফলন পেতে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। শিশির ভেজা সরিষা ফুলের ডগা এক অপরূপ বৈচিত্র। ক্ষণস্থায়ী হলেও কিছু দিনের সৌন্দর্য বিলিয়ে কৃষকের ঘরে ওঠে স্বপ্নের ফসল।

সরিষা চাষকে ঘিরে থেমে নেই মৌচাষি মৌয়ালরাও। মৌয়ালরা মধু সংগ্রহের জন্য সরিষা জমিকে বেছে নিয়েছেন। দিগন্ত জুড়ে খোলা মাঠে হলুদ চাদরে ভ্রমর ও মৌমাছির গুনগুন শব্দে ভরে উঠেছে প্রান্তর। গত মৌসুমে স্থানীয় বাজারগুলোতে সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা চলতি মৌসুমে সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন বলে মনে করে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, সরিষা, আমন ও বোরো ধানের মাঝে উপরি ফসল হিসেবে চাষ হয়ে থাকে। যার ফলে কৃষক বাড়তি লাভবান হন। চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। আগাম জাতের সরিষায় ফুল আসা শুরু করেছে। তেল জাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে চলতি মৌসুমে উপজেলার ২ হাজার ৪শ জন কৃষককে কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে উন্নত জাতের সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। কৃষিতে সরিষার চাষ বৃদ্ধিতে সরকার কৃষকদের বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করছে। সরিষা চাষ সম্প্রসারণের জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। এবার সরকারিভাবে প্রায় ৩ হাজার ৬শ জন কৃষককে বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।