হুমায়ুন কবির জুশান, কক্সবাজার : পর্যটক ধর্ষণকাণ্ডের মূল হোতা আশিকুল ইসলাম আশিকের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মোঃ রুহুল আমিন।

মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) আদেশের জন্য ধার্য রাখেন বিচারক হামীমুন তানজীন।

এর আগে, ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পুলিশি পাহারায় আশিকুল ইসলামকে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে আনা হয়। ২ জানুয়ারি গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, এ মামলার বাকী পাঁচ আসামির রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তারা কেউই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।
গত ২২ ডিসেম্বর স্বামী ও সন্তানকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযাগে চারজনের নাম উল্লেখ ও তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন ভিকটিম নারীর স্বামী।

মামলার আসামি হলেন- শহরের বাহারছড়া এলাকার আশিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ শফি ওরফে ইসরাফিল হুদা জয় ওরফে জয়া, মেহেদী হাসান বাবু ও জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন।
মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

প্রধান আসামি আশিককে গত ২৬ ডিসেম্বর মাদারীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাকে ঢাকার আদালতে তোলা হয়। আদালতের আদেশ মতে তাকে কক্সবাজার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, প্রধান আসামি আশিকুল ইসলামকে গত ২ জানুয়ারি ঢাকা থেকে কক্সবাজার আনা হয়।

সোমবার (৩ জানুয়ারি) জিজ্ঞাসাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন তদন্ত কমকর্তা।

মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিকটিম এবং বাদী একেক সময় একেক কথা বলছেন। এ কারণে মামলা অগ্রগতিতে প্রভাব পড়ছে, বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মুল আসামিকে রিমান্ডে নিলে ঘটনার আরও অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারব বলে আশা করছি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্বামী-সন্তান নিয়ে তিনি কক্সবাজারে আসেন। এর মধ্যে ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার কিছু পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার আট মাসের সন্তান ও স্বামীকে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়। আর তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জোর করে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে শহরের একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানে নিয়ে প্রথমে তিনজন ধর্ষণ করেন। তারপর নেয়া হয় হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে। সেখানে আবারও তাকে ধর্ষণ করেন আশিক। ঘটনার দিনই ওই নারীকে হোটেল থেকে উদ্ধার এবং ওই হোটেলের ম্যানেজার ছোটনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।