এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় প্রতিনিয়ত মানুষের ভিড় অব্যাহত রয়েছে। ঢাকামুখী মানুষ যেমন নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়ায় ভিড় করছে। পাশাপাশি রাজধানী ছেড়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী মানুষ নদী পাড়ি দিয়ে এসে ভিড় করছে।
তবে যানবাহনের বাড়তি ভাড়ার কারনে বাড়তি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এসব মানুষ। শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় এমনই চিত্র দেখা যায়।
বিআইডবিøউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, লকডাউন কিছুটা শীথিল হওয়ায় যাত্রী পারাপার অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে প্রতিদিন সকালের দিকে ফেরিতে ব্যক্তিগত গাড়ির সাথে যাত্রীর চাপ থাকছে। ঢাকামুখী মানুষের চাপ থাকছে বেশি।
বিপরিত দিকে ঢাকা ছেড়ে আসা মানুষের ভিড়ও কম না।একই সাথে বেড়েছে ছোট গাড়ীর চাপও। এসব গাড়ী পারাপার নিষেধ থাকলেও প্রশাসনের বিশেষ পাশ নিয়ে আসায় বাধ্য হয়ে আমরা তাদের পার করছি।
দৌলতদিয়া ঘাটে দেখা যায়, ৩ ও ৪নম্বর ঘাট দিয়ে ছোট ফেরিগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ির সাথে সাধারণ যাত্রীরা আসা যাওয়া করছে। ৩ নম্বর ঘাটে নদী পাড়ি দিয়ে আসা ছোট ফেরি চন্দ্র মল্লিকায় করে নদী পাড়ি দিয়ে আসা ফরিদপুরের মধুখালীর বাড়ি যাচ্ছিলেন কৌশিক আহম্মেদ। তিনি বলেন, কাঁচা মালের ব্যবসা করি বলে রাতে ট্রাকে ঢাকায় গিয়েছিলাম।
রাতে আরো কিছু কাজ থাকায় সকালে ভেঙ্গে ভেঙ্গে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় আসি। নদী পাড়ি দিয়ে এখন পড়েছি বিপাকে। অন্য কোন যান না থাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সায় করে অন্যান্য যাত্রীদের সাথে ২০০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে রওয়ানা করছি। মধুখালি পৌছতে তাতে দুই ঘন্টার মতো লাগবে। কিছু করার নাই, যেতে হবেই। অথচ স্বাভাবিক সময় মধুখালি থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা খরচ হতো।
এভাবে ঝিনাইদহ থেকে গাজীপুর যাচ্ছিলেন সাইফুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই। দুইজনই গাজীপুরের একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। করোনায় লকডাউনের কারণে কর্তৃপক্ষকে অবগত করলেও লকডাউন অনেকটা শীথিল হওয়ায় অফিসে যেতে বলেছেন। করোনার ঝুকি এড়াতে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেলে ৮০০ টাকা দিয়ে রিজার্ভ করে দৌলতদিয়ায় এসে পৌছেছি।
এখন নদী পাড়ি দিয়ে কিভাবে যাব সেই চিন্তা করছি। পারলে পাটুরিয়া থেকে মোটরসাইকেল বা ব্যক্তিগত গাড়ি রিজার্ভ করে যাব। না পারলে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে পৌছতে হবে। চাকুরী তো আগে রক্ষা করতে হবে।
করোনায় আমাদের বিপদের পর বিপদ ফেলে দিয়েছে। একদিকে রোজগারের পথ অনেকটা বন্ধের উপক্রম। অন্যদিকে ব্যায় বেড়েছে কয়েকগুন।